সারাদেশের সব স্কুলে অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশ হাইকোর্টের

সারাদেশের সকল স্কুলের শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ লিখিত আকারে জমা দেয়ার জন্য স্কুলে অভিযোগ বক্স স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অভিযোগ বক্স খোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের না দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দেয়ার বিষয়ও বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত।
একইসঙ্গে, অরিত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বুলিং নিরোধ কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১০ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির সুপারিশ করা নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করার পর আদালত এ পরামর্শ দেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের করেছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)। অন্যদিকে, অরিত্রীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার) বলেন, ‘শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে হতে যাওয়া জাতীয় নীতিমালায় প্রতিটি স্কুলে শিশুদের অভিযোগ শোনার জন্য একটি অভিযোগ বক্স রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত। শিশুরা তাদের নির্যাতনের অভিযোগগুলো মা-বাবা বা স্কুলের শিক্ষক, কারো কাছেই বলতে পারে না। সেক্ষেত্রে স্কুলে একটি অভিযোগ বক্স থাকলে সেখানে শিশুরা অভিযোগগুলো নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার খবর সুপ্রিমকোর্টের চার আইনজীবী নজরে আনার পর ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
ওই সময় আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। এক মাসের মধ্যে এই কমিটিকে দুটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একটি হচ্ছে- জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। আরেকটি হচ্ছে- অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানের প্রতিবেদন।’
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুলও জারি করেন। অরিত্রীর আত্মহত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: