সুন্দরবন বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ

ইউনেস্কো’র বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানালো ইউনেস্কো।
সুন্দরবনকে বিপন্ন তালিকায় রাখা হবে নাকি বাদ দেয়া হবে এ নিয়ে কমিটির ৪৩ তম সভায় শুনানি ছিল। সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আজারবাইজানের বাকুতে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এ সভা হয়।
ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ, বনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে, দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ জানিয়ে আসছিল জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাটি। এ কারণে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কমিটিতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। আলোচনাকালে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকারী চারটি দেশ ছাড়াও আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে।
কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটি সদস্য রাষ্ট্রগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র তাদের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেবে। এছাড়াও বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ অবস্থা জানাতে প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: