স্কুল পরিদর্শনে এসে ছেলেধরা সন্দেহের শিকার শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রশাসনিক কাজে স্কুল পরিদর্শনে এসে ছেলে ধরা সন্দেহের শিকার হলেন চট্টগ্রাম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। সোমবার(২২ জুলাই) দুপুরে নগরীর উত্তর কাট্টলী মুন্সি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে অভিভাবকদের সন্দেহের শিকারে পড়েন চট্টগ্রাম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এডিপিও তাপস পাল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহযোগিতায় পরে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, গতকাল রোববার (২১ জুলাই) উত্তর কাট্টলী মুন্সি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষার্থীর মাথা সংগ্রহ করা হবে বলে গুজব রটে।
প্রশাসনিক কাজে সোমবার সকালে এই স্কুলে আসেন শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস পাল। অচেনা মানুষকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখে এসময় একের পর এক অভিভাবকরা এসে জড়ো হতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা স্কুল কার্যালয়ের সামনে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। ঘটনার কথা জানতে পেরে অন্যান্য অভিভাবকরাও স্কুল কর্তৃপক্ষকে ফোন করতে শুরু করে।
এসময় ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা ছেলের মাথা নেয়ার ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি করছে বলেও গুজব রটিয়ে দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে এ ঘটনার কথা জানায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিভাবক আওয়ামী লীগ নেতা আবু সুফিয়ান জানান, স্কুলে শিশুর মাথা নিতে লোকজন আসবে বলে গতকাল গুজব রটে। এমন পরিস্থিতিতে আজ স্কুলে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা এসেছেন। তাকে দেখে অভিভাবকরা গুজবের ঘটনাকে সত্য মনে করে সন্দেহ করতে থাকে। একের পর এক অভিভাবক স্কুলে আসতে শুরু করে। ঘটনার কথা শুনে আমি স্কুল শিক্ষককে ফোন করি।
স্কুল শিক্ষক আমাকে পুরো ঘটনা জানান এবং তাড়াতাড়ি স্কুলে আসতে বলেন। আমি যখন স্কুলে আসি তখন দেখি করিডোর থেকে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে পাহাড়তলী থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি একজন এসআই ও কয়েকজন ফোর্স পাঠান। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে অভিভাবকরা কিছুটা শান্ত হন। কিন্ত তাদের সন্দেহ কমে না। পুলিশের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে স্কুল ছুটি হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এই ঘটনার ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গতকাল এই গুজবের ঘটনা রটেছে। এটি গুজব রটিয়ে ঘটনা সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে। শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলে এসে ছেলের মাথা সংগ্রহ করার চুক্তি করছে বলেও গুজব ছড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরে থানার ওসি এসে ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছেন। আগামীকাল সমাবেশ করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
এ ব্যাপারে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র ড. নেছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্কুলে প্রশাসনিক কাজে এসে শিক্ষা কর্মকর্তা ছেলেধরা সন্দেহের শিকার হওয়ার ঘটনা সত্য। অভিভাবকেদের মনে ছেলেধরার আতঙ্ক থেকে এমন সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, এই ধরনের যে কোন সন্দেহজনিত ঘটনায় ঘাবড়ে না গিয়ে সরাসরি তাঁকে অবহিত করার ব্যাপারে এলাকাবাসীদেরকে আহবান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে সচেতনতামুলক বক্তব্য প্রদানের জন্য ইমাম পুরোহিতদের অনুরোধ করা হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: