হরতাল: অনলাইনে সরব, মাঠে নীরব

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রোববার বাম গণতান্ত্রিক জোটের আধাবেলা হরতালে অনলাইনে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। তবে, মাঠে হরতালের সমর্থনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলো না বললেই চলে।
গত ৩০ জুন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পরদিন ১ জুলাই হরতালের ডাক দেয় ৮ দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট। গ্যাসের এই বাড়তি দাম ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
হরতাল ডাক দেওয়ার পর ফেসবুকে অনেকে স্ট্যাটাস দিয়ে এর সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেখানে তারা হরতালকে যৌক্তিক দাবি করেন। এমনকি রোববার সকালেও অনেকে দফায় দফায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
মনোয়ার আলম নির্ঝর নামে একজন হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে কয়েকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজকের হরতালে আমার পূর্ণ সমর্থন। হরতাল সফল হোক জীবনের তাগিদে’।
সাইফুল ইসলাম মাসুম নামে একজন লিখেছেন, ‘ন্যায্য দাবির হরতালকে সমর্থন করছি’।
তবে, হরতালের সমর্থনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের গুটি কয়েক নেতাকর্মী ছাড়া কাউকে মাঠে দেখা যায়নি।
হরতাল সমর্থকরা ঢাকার মূলত দুই জায়গায় অবস্থায় নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এরমধ্যে সকালে পুরানা পল্টন মোড়ে একটি গাড়ি ভাঙচুর করে পিকেটিংয়ের চেষ্টা করেন। সেখানে থেকে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও তারা স্বীকার করেননি। এছাড়া বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পল্টনে হরতাল সমর্থকদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
অন্যদিকে সকাল ৬টার পরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এ কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। তবে, যান চলাচলের জন্য পুলিশ বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দিলে এ সমস্যাও বেশিক্ষণ থাকেনি।
শাহবাগ এলাকায় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরতালে তাদের মৌন সমর্থন আছে। তবে, মাঠে থেকে তারা হরতাল পালন করতে রাজি নন।
শাহবাগে আইটি ফার্মে কর্মরত সারোয়ার হোসাইন নামে একজন বলেন, ’হরতাল থাকলেও আমার অফিস তো বন্ধ হচ্ছে না। হরতাল সমর্থন করছি, কিন্তু মাঠে থাকতে পারছি না’।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই হরতাল সমর্থন করেছেন। সাধারণ মানুষ আমাদের ন্যায্য দাবির প্রতি একমত। আশা করি গ্যাসের দাম আগের পর্যায়ে আনতে সরকার বিবেচনা করবে’।

Leave a Reply

%d bloggers like this: