হাউজ কিপিংয়ে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা !!

রেজাউল হক রাজু #
আমাকে আমার এক বড় ভাই জনাব মঈনুল হাসান পলাশ অনুরোধ করেছিলেন হসপিটালিটি সেক্টরে ক্যারিয়ারের সুযোগ, সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে কিছু লিখতে। তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই লিখছি। আমি ধরে নিচ্ছি আমার এই লেখাটি শুধু ক্যারিয়ারিষ্ট পাঠকরাই পড়বেন। তাই কলেবর নিয়ে ভাবনাটা দুরে সরিয়ে রাখছি। আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমি কোনো একাডেমিশিয়ান বা প্রথাগত তাত্ত্বিক নই। আমার অন্যান্য লেখার মতোই আমি গতানুগতিক ধারা অনুসরণ না করে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা শুধু শেয়ার করব। বাংলাদেশে হোটেল খাতের ক্যারিয়ার নিয়ে বলতে গেলে কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট সবার আগে আসে বলে নিই। প্রথমে আসবে হাউসকিপিং, ফ্রন্ট অফিস, এফ এন্ড বি সার্ভিস, এফ এন্ড বি প্রোডাকশন,সেলস এন্ড মাৰ্কেটিং , আমি আজ আপনাদের হাউসকিপিং নিয়ে কিছু কথা লিখবো বলে বসলাম। যেকোনো জিনিস সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখাটা এক ধরনের শিল্প। এর জন্য খুব বেশি মেধা বা শিক্ষার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় ইচ্ছাশক্তি ও কৌশলের। আর যারাই এ সাজানো-গোছানোর কাজ পছন্দ করেন, তারা আসতে পারেন হাউজ কিপিং পেশায়।এটি হতে পারে নিজের বাসা/রুম গুছিয়ে রাখা থেকে শুরু করে সেই পাঁচতারকা মানের হোটেল পর্যন্ত। আর দেশ-বিদেশে এসব পাঁচতারকা হোটেল গড়ে ওঠার পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাউজ কিপিং পেশাটি। এ পেশায় চাকরির চাহিদা ও সুযোগও বাড়ছে প্রচুর। ন্যূনতম এসএসসি পাস হলেই এ বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন আপনার পেশাজীবন। শুধুমাত্র মনোবল, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়তে পারেন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। পেশা হিসেবে হাউজ কিপিং :সাধারণত হাউজ কিপিংকে বলা হয়ে থাকে একটি হোটেলের কেন্দ্রবিন্দু বা হার্ট। কারণ রুম ছাড়া কোনো হোটেল চিন্তাই করা যায় না। শুধু তাই নয়, হোটেল-মোটেল-বোটেল-রিসোর্ট বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যখনই তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয়ে নজর দেয় তখনই হাউজ কিপিং শব্দটি চলে আসে।বাংলাদেশে হোটেল ইন্ডাস্ট্রিতে স্মার্ট কর্মীর অভাব।

আমি আপনাকে বলছি আপনি যদি দেখতে শুনতে খুব স্মার্ট হন , তাহলে এক্ষুনি শর্ট কোর্স ডিপ্লোমা করতে পারেন খুব স্বল্প সময়ে হয়ে যেতে পারেন হোটেলিয়ার। কোথায় করবেন হোটেল ডিপ্লোমা-যারা ঢাকা জেলার আশেপাশে তাদের জন্য

এনএইচ‌টি‌টিআই‌তে, হোটেল অবকাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, মহাখালী, ঢাকা (তিতুমীর কলেজের উল্টো পার্শ্বে।ওয়েবসাইট https://www.nhtti.org/notice.php অথবা www.parjatan.gov.bd

যারা চট্টগ্রাম জেলার আশেপাশে তাদের জন্য রয়েছে -ACE COLLEGE- রোড নংঃ ১,বাড়ি নংঃ ৮,ওআর নিজাম আবাসিক এলাকা,(হোটেল ওয়েল পার্কের পাশে)জিইসি,চট্টগ্রাম -কক্সবাজার সিটি কলেজ -কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পড়াশুনা এবং ইন্টার্নি করার পাশাপাশি আপনি খুব সহজে জব করতে পারবেন সেলারি পাবেন শুরুতে নুনতম ৮০০০-১০০০০টাকা খাওয়া থাকা ফ্রী। তারকা হোটেল গুলো আপনাকে দেবে মাসিক সার্ভিস চার্জ। দুই ঈদে দুইটা বোনাস!

হোটেল ক্যারিয়ারের প্রধান এ্যাডভান্টেজ কী? প্রায়ই লোকজন আমাকে এই প্রশ্ন করেন। আমি তাদের কয়েকটি উত্তর দিই এখানে উপরে ওঠার রাস্তাটি খুব সীমিত না বা খুব কমক্ষেত্রেই কোটা মেনে চলে। বিধায় যে কারো (এখন পর্যন্ত) টপে যাবার সুযোগ থাকে। এখানে একজন মালিকের সরাসরি তত্বাবধানে (যদিও এটার অন্য নেতিবাচকতা আছে) কাজ করা হয় বিধায় মূল্যায়নের সিঁড়িটি হাতের কাছেই থাকে।

হোটেলে কাজের চ্যালেঞ্জ প্রচুর এটা যেমন সমস্যা আবার একই সাথে এটি বিরাট সুযোগও। চ্যালেঞ্জ না থাকলে আপনি শিখবেন কী করে? আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যদি আপনি টিকে থাকতে পারেন, তবে বাংলাদেশের কোনো সেক্টরে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আপনি আর আটকাবেন না। আরেকটি কথা কেউ যদি এফ এন্ড সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে সেলিম সালেক স্যার এর এই বইটির বিকল্প নেই। বইটির নাম হচ্চে এফ এন্ড বি কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা লেখক এর নাম সেলিম সালেক যিনি আমার হোটেল আইডল বইটি পেতে হলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন 01976905813

রেজাউল হক রাজু
নির্বাহী হাউসকিপার
বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ
কক্সবাজার

প্রাক্তন। সহকারী নির্বাহী হাউসকিপার
রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট
কক্সবাজার

Leave a Reply

%d bloggers like this: