হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্তের শঙ্কা

সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল-সব জায়গাই এখন ভরে গেছে ডেঙ্গু রোগীতে। যেখানেই একটু খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে বসেই চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করছেন আক্রান্তরা। তবে যারা এই রোগীদের সেবাদানে ব্যস্ত সেই চিকিৎসক, হাসপাতালের সেবাকর্মী এমনকি হাসপাতাল আসা স্বজনদের মধ্যেও শঙ্কা, এখানে বসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন তারা। কারণ, সিটি করপোরেশনের ‘অব্যবস্থাপনা’ এতটাই ছাড়িয়েছে যে, হাসপাতালের আশেপাশের জায়াগুলোতেও এডিসের বংশ বিস্তার রোধে তেমন কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল। ডেঙ্গু কর্নার, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এসব ভুলে এখন পুরো হাসপাতালই যেন ভরে গেছে ডেঙ্গু রোগীতে। মেঝেতে বারান্দায় যেখানে একটু খালি জায়গা সেখানেই বিছানা পেতে চলছে চিকিৎসা। একই অবস্থা রাজধানীর সকল সরকারি হাসপাতালের।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোরও বেহাল দশা। শয্যার অতিরিক্ত রোগী না থাকলেও পরিপূর্ণ প্রতিটি ওয়ার্ড, যার অধিকাংশই ডেঙ্গু রোগী। অথচ হাসপাতালগুলো এডিসমুক্ত রাখতে কোনো পরিকল্পনাই চোখে পড়ছে না। উল্টো আশেপাশের পরিবেশ যেন এডিসের বংশ বিস্তারের সহায়ক।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী বলেন, আমরা এখানে কাজ করলেও আমাদেরও শঙ্কার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এমনিতেই এতো রোগী সামলাতে বেশামাল চিকিৎসকরা, তার ওপর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তারাও।
এক চিকিৎসক বলেন, প্রতিদিন এখানে অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সেই হিসেবে আমাদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে দুষছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন বলছে বিষয়টি আমলে নিয়ে কাজ করবেন তারা।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, রোগীর স্বজনরা ডাবের খোসাসহ নানা জিনিস নিয়ে এসে এখানে সেখানে ফেলছেন। এতে এডিসের বংশ বিস্তারের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এখানে সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো তৎপরতা আমি দেখিনি।
ডিএনসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমেনুর রহমান বলেন, তাদের কোনো সহযোগিতার দরকার হলে আমি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে তাদের সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করব।
এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে আর এখনো চিকিৎসাধীন ৩ হাজার ৮৪৭ জন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: