৪২ হাজার পিস ইয়াবা মামলার আসামির জামিন, রাষ্ট্রপক্ষ ‘নাখোশ’

৪২ হাজার পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আবুল বাশার নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। এ সংক্রান্ত আদেশে ‘নাখোশ’ হয়ে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও বিচারক আদালত থেকে চলে যাওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুধবার (৩১ জুলাই) জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম চমন চৌধুরী আড়াই বছর কারাগারে থাকা আসামি আবুল বাশারকে জামিনের আদেশ দেন। আসামি আবুল বাশার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার বারেক গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে।
এদিন বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, জব্দ করার স্থান ও আসামির ঠিকানার গড়মিল থাকায় এবং সামনে ঈদুল আজহা থাকায় আসামির জামিন মঞ্জুর করা হলো।
জামিনের এ আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জামিন স্থগিতের জন্য দুপুর আড়াইটার দিকে আদালতে আবেদন করেন। তবে ততক্ষণে বিচারক আদালত থেকে চলে যাওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়, সাড়ে ৪২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা সত্ত্বেও আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে জামিন বাতিলের জন্য সহিমোহরি নকলের আবেদন করেছে এবং নকল পেয়েও উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য সময় একান্ত প্রয়োজন। এ অবস্থায় আসামির জামিননামা স্থগিত রাখা একান্ত প্রয়োজন এবং আসামি মুক্তি পেলে পরবর্তী সময়ে আদালতে হাজিরা দেবেন না এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করবেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।
এ বিষয়ে ওই ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত শাওন বলেন, রাষ্ট্র যখন মাদক নির্মূল করতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সময় এ ধরনের মামলায় জামিনে আমরা হতাশ। হাইকোর্টে যেখানে ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ৫ বছরেও জামিন হয় না, সেখানে আড়াই বছরে এ আদালত কেন জামিন দিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা হাইকোর্টে জামিন বাতিলের আবেদন করব। আদেশ চেয়ে আবেদনও করেছি।
আনোয়ার শাহাদাত শাওন অভিযোগ করে আরও বলেন, এর আগে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় মো. উজ্জল ওরফে ফারুক ওরফে উত্তম সাহা নামে এক আসামি জামিন পেয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ গুলশান থানার শাহজাহানপুরের একটি বাড়ি থেকে আসামির বাসার ওয়্যারড্রোবের ভেতর থেকে ৪২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তার গাড়ি থেকে আরো পাঁচশ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ইয়াবা উদ্ধারের ওই ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। ওই বছরের ৩০ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ফেরদৌস আলম সরদার। আসামি হারুন, বাদশা আর জাকির নামে তিন জনের নাম আসায় চার জনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশিট দাখিল করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি তিন আসামি জামিনে আছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: