অর্থ সংকটে জাতীয় পার্টি, ধার-দেনায় চলছে কর্মসূচি

দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর অর্থ সংকটে ভুগছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। পার্টির কার্যক্রম চলছে নেতাকর্মী আর শুভানুধ্যায়ীদের টাকায়। ধার-দেনা করেও কোনো কোনো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জাপা সূত্রে জানা গেছে।
গত ৩১ জুলাই নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে পার্টির তহবিলে আছে ৭৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে না। এতদিন পার্টির ফান্ড ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হতো পার্টি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে। এরশাদের অবর্তমানে কে হিসাব পরিচালনা করবেন ব্যাংকে এখনও সে তথ্য দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ড এখনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। দলটির ভেতরে চলছে নেতৃত্বের লড়াই। একপাশে এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদ, অন্যপাশে রয়েছেন এরশাদের ভাই জি এম কাদের।
গত ১৪ জুলাই মারা যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি অসুস্থ থাকাকালেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তার ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় কোনো কর্মসূচি এলে তা বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর দুই অংশের মধ্যসারির নেতাদের অর্থায়নে। এখন পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্মরণে যে সভা হচ্ছে তার ব্যয়ভার বহন করছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। তবে আগামী দিনে বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গেলে আরও অর্থ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে এমন আশঙ্কা করছে দলটির নেতাকর্মীরা।
এদিকে পার্টির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ধার দেনা করে জুনিয়র নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মকাণ্ডের খরচ বহন করছেন। অনুষ্ঠান হলেই তাৎক্ষণিকভাবে ধার-দেনা ও অনুদান সংগ্রহ করা হয়।
সম্প্রতি দলটির সাংগঠনিক কর্মী সভায় ২৫ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পার্টির প্রতি এমপি ও প্রেসিডিয়াম মেম্বর দিয়েছেন ১ লাখ টাকা আর সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানরা দিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ।
এ প্রসঙ্গে পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ এমপি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির অর্থ সংকট রয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে টাকা আছে তা খুবই কম। বর্তমানে অনুষ্ঠানগুলো মহানগর নেতাকর্মীদের টাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
জাপা মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন, এ মুহূর্তে অর্থ সংকট থাকলেও ভবিষ্যতে তা কেটে যাবে। দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে।
গত ৩১ জুলাই নির্বাচন কমিশনে ২০১৮-১৯ সালের পার্টির আয় ব্যায়ের হিসাববিবরণী জমা দিয়েছেন জাপা। হিসাব অনুযায়ী—২০১৮-২০১৯ সালে জাতীয় পার্টির আয় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: