আইনি জটিলতায় বঙ্গবন্ধুর ৬ খুনিকে ফেরাতে দেরি

আইনি জটিলতায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ৬ খুনিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ। কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও হয়নি নতুন কোনো অগ্রগতি।
তাই এবার কানাডা থেকে নুর চৌধুরী আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীদের মুখাপেক্ষী সরকার। পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় মনে করছে, এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন প্রবাসীরা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি এখনও বিদেশে পলাতক। তাদের দুজনের অবস্থান জানা গেলেও, বাকি ৪ আসামি কোথায় আছে, নিশ্চিত নয় ইন্টারপোল।
২০১৮-য় সাবেক পররাষ্ট্র জানিয়েছিলেন আবদুল আজিজ পাশা মারা গেছেন জিম্বাবুয়েতে। খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে, শরিফুল হক ডালিম লিবিয়া বা জিম্বাবুয়ে আর আবুল মাজেদের সম্ভাব্য অবস্থান সেনেগালে।
রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন জার্মানিতে আছেন ধারণা করা হলেও এর সত্যতা মেলেনি। রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে দেশে আনতে আশাবাদি সরকার। কারণ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে নয় দেশটি।
তবে কানাডায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যাবাসনে বাধা থাকায় নূর চৌধুরীকে নিয়ে আছে জটিলতা। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বিশেষ টাস্কফোর্সের প্রধান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, প্রক্রিয়া জটিল হলেও হাল ছাড়বে না সরকার।
এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির আসামি মহিউদ্দিন আহমেদকে ২০০৭ সালের ১৭ জুন ফিরিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বজলুল হুদাকে ফেরত পাঠিয়ে বিচারে সহায়তা করে থাইল্যান্ড।
সব জটিলতা কাটিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকীর আগেই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে রায় কার্যকরে প্রত্যয়ী সরকার।
তবে কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও যেসব দেশের আশ্রয়ে আছেন তাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ৬ খুনিকে দেশে ফিরিয়ে দণ্ডকার্যকর করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: