কক্সবাজার জেলার বিধ্বস্ত সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে আশার বাণী শোনালো সওজ

মঈনুল হাসান পলাশ ॥
গত দু’বছরে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আশি কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আঠারো ফুট চওড়া দুই লেনের এই সড়কে মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ভাঙ্গন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাপক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াতে প্রতিদিন চলাচল করছে চার/পাঁচ হাজার যানবাহন। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সংকীর্ণ এই সড়কটি বিধ্বস্ত হয়েছে। পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে।
এছাড়া গত এক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক। সংস্কারের অভাবে চকরিয়ার একতা বাজার হতে মগনামা ঘাট সড়কটিও বেহাল দশায়। রামু-মরিচ্যা সড়কটি খানাখন্দকে চরম বিপদজনক সড়কে পরিণত হয়েছে। এছাড়া শহরের খুরুশকূল হতে ইদমণি পর্যন্ত সড়কটিও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজার অফিসে যোগাযোগ করা হলে,সংশ্লিষ্টরা শোনালেন আশার কথা।
জেলার সবচেয়ে ব্যস্ত এবং বর্তমানে প্রায় বিধ্বস্ত কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের প্রশস্তকরণ এবং পূনঃনির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান বলে জানালেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা। লিংকরোড থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার রাস্তার প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হতে চলেছে। সড়কটি বর্তমানের ১৮ফুট থেকে বাড়িয়ে ২৪ফুট চওড়া করে দুই লেনের সড়ক করা হচ্ছে। মোট ৪৫৮ কোটি ব্যয়ে কাজ শুরু হয় গত বছরের অক্টোবরে। ২০২০ সালের জুনে উনচিপ্রাং পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ হবে বলে জানালেন পিন্টু চাকমা। তবে তিনি একটি সমস্যার কথা জানালেন। লিংকরোড হতে উনচিপ্রাং পর্যন্ত সড়কে মোট আটটি স্টেশন রয়েছে। এই স্টেশনগুলো জনাকীর্ণ থাকে। ফলে এসব স্টেশন এবং বাজারে সড়কটি ৪৫ ফুট চওড়া করা হবে। এখানে বিটুমিনের পরিবর্তে সিসি ঢালাইয়ের সড়ক হবে। যাতে পানিতে রাস্তা নষ্ট না হয়। তবে এখানে রাস্তার জায়গার মাঝেই পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানা কয়েকশ খুঁটি রয়েছে। এগুলো সরানোর জন্য বার বার পল্লী বিদ্যুতকে তাগাদা দিলেও এর সমাধান হয় নি বলে জানিয়েছেন,কক্সবাজার সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী।
এদিকে, উনচিপ্রাং হতে টেকনাফ স্টেশন পর্যন্ত বাকী ৩০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার অথবা পুনঃনির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে জানা নেই।
এছাড়া ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রামু থেকে মরিচ্যা পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সড়কটি ৩৪ ফুট চওড়া হবে। খুরুশকূল থেকে ইদমণি পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চকরিয়ার একতা বাজার হতে পেকুয়ার মগনামা ঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার শেষ হয়েছে। ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কের কাজ সহসাই শেষ হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: