কাশ্মীরিদের জন্য আমরা যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত : পাক সেনাপ্রধান

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, কাশ্মীরিদের সহায়তার জন্য তার সৈন্যরা যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যাওয়ার পরের দিন মঙ্গলবার তিনি কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোর এ ঘোষণা দেন।
ইসলামাবাদে সেনা সদর দপ্তরে কাশ্মীর ইস্যুতে আয়োজিত বিশেষ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সেনা কমান্ডার সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের উদ্দেশে জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেন, ‘কাশ্মীরিদের সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দায়িত্ব পালনে যেকোনো পর্যায়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
এক বিবৃতিতে পাক সেনাপ্রধান বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপ পাকিস্তান সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। এ সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। ৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোনো ভারতীয় রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত। আর এ অনুচ্ছেদটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।
সোমবার সংসদে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের তুমুল বাধা ও বাগবিতণ্ডার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এ মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষরও করেছেন।
এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই ৩৭০ অনুচ্ছেদের সুবাদে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারাই শুধু সেখানে বৈধভাবে জমি কিনতে পারতেন, সরকারি চাকরি করার সুযোগ পেতেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারতেন।
ওই অনুচ্ছেদ বিলোপের বিষয়টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির পুরোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর একটি। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: