ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াল বৃষ্টি

ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তারের মধ্যেই ব্যাপক বৃষ্টি নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছেন একজন কীটতত্ত্ববিদ। নগরবাসীকে তার বাড়ির ভেতর এবং চার পাশ আবার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস ইজিপ্টি মশা এমন জায়গায় ডিম পারে, সেখানে স্বচ্ছ পানি জমতে পারে। আর পানির সংস্পর্শে এলেই ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। আর তিন দিনে সেই লার্ভা থেকে মশার জন্ম হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হালকা বৃষ্টি ডেঙ্গুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক সন্দেহ নেই। ডেঙ্গু বাহক এডিস মশা জীবনের একটা অংশ ডিম হিসেবে কাটিয়ে দিতে পারে। ডিম এক সপ্তাহ থেকে একমাস পর্যন্ত থেকে যায়। তারপর এই পানির সংস্পর্শে এসেই পরিপক্ক হবার সুযোগ পায়।’
গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের মধ্যে নগরবাসীর বহুজনই নিজের বাড়িঘরের বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন এটা স্পষ্ট। কোনো পাত্রে পানি জমেছে কি না, সেটি দেখছেন তারা। কোথাও পানি জমে থাকলে অপসারণ করছেন।
এর মধ্যে গতকাল দুপুরে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ছাদ, কার্নিশ বা বারান্দায় বহু পাত্রেই পানি জমেছে এটা নিশ্চিত। এ ছাড়াও আরো বহু জায়গা আছে যেখানে এডিস মশা ডিম পারতে পারে। আর এই পানি কোথাও জমলেই তা তৈরি করতে পারে ঝুঁকি।
বাড়ি ছাড়াও বাইরের যেসব এলাকা এডিসের সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে ধরা হয়, সেগুলোর পরিস্থিতি আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বাড়ির ভেতর বা আশেপাশে পড়ে থাকা টায়ার, ডাবের খোসাগুলোতেও পানি জমেছে বৃষ্টিতে। আর এই বিষয়গুলো নিয়ে বারবার সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং এর পর তিন দিন ঈদের ছুটি হতে যাচ্ছে। বহু সরকারি, বেসরকারি ভবন আর নির্মাণাধীন ভবনে এই সময়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে না। ঈদের ছুটিতে যাওয়া নগরবাসীর বারান্দা, ছাদগুলোও থেকে যাবে অরক্ষিত।
কীটতত্ত্ববিদ শরীফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে মশার সম্পর্ক থাকেই। এডিস মশার জন্য বেশ উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এই বৃষ্টি। কারণ পানির ছোঁয়া পেলেই ডিম নিষিষ্ক হয় এডিসের। যদিও মুশলধারে বৃষ্টির পানি মশার লার্ভার সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ঝুঁকিটা থেকেই যায়।’
‘কারণ, বৃষ্টির পানি খোলা জায়গার লার্ভা কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ঘরের উড়ন্ত মশার কিছুই করতে পারে না। সেই উড়ন্ত মশা নতুন জমানো পানিতে গিয়ে ডিম পারার সুযোগ থেকেই যায়। তাই ঝুঁকি থাকছেই।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: