‘পর্ন ফিল্ম করেও পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি’

অঞ্জন দত্ত মানেই ডার্ক ছবি। তবে এবার ঘরানাটা একটু বদল করেছেন পরিচালক। ডার্ক কমেডিতে মনোনিবেশ করছেন তিনি। হাস্যরসের নিরিখে ছবিতে গূঢ় মেসেজ দিয়ে দেওয়াটাই অঞ্জন দত্তের ছবি বলার ভঙ্গি। ‘সাহেবের কাটলেট’ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে অর্জুন চক্রবর্তীকে। আর তার বিপরীতে নায়িকা হচ্ছেন শ্রীতমা দে।
এই নামের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক গল্প। প্রথমে তিনি ছিলেন ইনটেরিয়র ডিজাইনার। তারপর একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার পর কিছুদিন মডেলিং করেছেন। ২০১৭ সালে বাংলা ধারাবাহিক ‘গুরুদক্ষিণা’ দিয়ে তার ছোটপর্দায় আসা। বাকিটা বাংলা ওয়েব সিরিজের দর্শকেরা জানেন।
‘ধানবাদ ব্লুজে’ তিনি একটি বোল্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেখানে ছিলো বেশ কিছু বিছানাদৃশ্য। ছিলো উষ্ণ কিছু চুমুও। সেইসব দৃশ্যগুলো লুফে নিয়েছে দর্শক। রাতারাতি আলোচনায় চলে এসেছে একটি নাম। তিনিই শ্রীতমা দে।
সাহসী খোলামেলা অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শক থেকে শুরু করে পরিচালক প্রযোজকদেরও। এখন পর্যন্ত ‘চরিত্রহীন’ ও ‘ধন্যবাদ ব্লুজ’ ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন। বর্তমানে প্রচুর ওয়েব সিরিজের অফার পাচ্ছেন তিনি।
তবে সমালোচনারও কিন্তু শেষ নেই এই নায়িকাকে নিয়ে। এমন খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য অনেক বাজে কথার শিকার হতে হচ্ছে তাকে।
শ্রীতমার ভাষ্যে, ‘আমি থাকি কলকাতায়। আমার বাবা-মা পরিবার বহরমপুরে। তারা ‘ধন্যবাদ ব্লুজ’ বেশ আগ্রহ নিয়েই দেখেছেন। তাদের ভালো লেগেছে। সিরিজটির গল্প ছিলো পর্ন ফিল্ম মেকিং নয়ে। আমার এক আত্মীয় সিরিজটি দেখে মাকে ফোন করে বলেছিলো, ‘বউদি পায়েল (শ্রীতমার ডাকনাম) এটা কী করেছে? পর্ন ফিল্ম করেছে।’
জবাবে মা বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ দেখলাম তো। খুব ভালো করেছে। ওর অভিনয় খুব সুন্দর হয়েছে। তোমার দাদাও বললো মেয়ে খুব ভালো কাজ করেছে।’ তো পর্ন ফিল্ম করেও আমি কিন্তু মায়ের সাপোর্ট পেয়েছি। তারা এটাকে অভিনয় হিসেবেই দেখেছেন। মা-বাবার এমন সমর্থন যে কোনো সন্তানের জন্যই প্রেরণা ও সাহসের।’
এদিকে শ্রীতমা জানালেন , ‘ধন্যবাদ ব্লুজ’ করার পর ওই রকমের আরও অনেক চরিত্রের অফার এসেছিল। কিন্তু সেগুলো নাকচ করে দিই। এই মুহূর্তে একটু অন্য চরিত্রগুলোয় নিজেকে ঝালিয়ে নিতে চাই। পরবর্তী কালে এই ধরণের চরিত্রের অফার এলে নিশ্চয় করব, তবে গল্পটা যেন ভাল হয়।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: