বিষন্ন-বিমর্ষ তামিম-মুশফিকরা

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যতবারই বিদেশে সিরিজ কিংবা কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে দেশে ফিরেছে, ভক্ত-সমর্থকদের একটা ভিড় বিমানবন্দরে লেগেই থাকত। জাতীয় দলের পতাকা থাকে সব সময়। টাইগার পোশাকে হাজির হয়ে যান কয়েকজন।
বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ যখন ইংল্যান্ড থেকে ফিরল, সেবারও একই দৃশ্য। দশ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অষ্টম, বলার অপেক্ষা রাখে না এমন পারফরম্যান্সে গোটা জাতির রাগ-অভিমান থাকার কথা ক্রিকেটারদের ওপর! কিন্তু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেদিন বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন ‘টাইগাররা’।
বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরল বাংলাদেশ দল। বিমানবন্দরে নেই সেই চিরচেনা দৃশ্য। ভক্ত-সমর্থক কিংবা ক্রিকেট অনুরাগীরা যেন মুখ ফিরিয়ে নিল! এ দায়টা অবশ্য ক্রিকেটারদেরই। বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঝেরে ফেলে কোথায় মাঠে সাফল্যের বন্যা বইয়ে দেবে, সেখানে শ্রীলঙ্কা থেকে দল ফিরল খালি হাতে। ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ। এমন লজ্জা ওয়ানডেতে এর আগে অনেকবার পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে কখনো পায়নি।
যদি বলা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লজ্জা পেয়েছে এবারের সফরে, তাহলেও ভুল হবে না। নিজেদের ব্যর্থতায় ক্রিকেটাররাও বিমর্ষ। বিমানবন্দরে প্রত্যেক ক্রিকেটারের চেহারায় স্পষ্ট ছিল, এমন ব্যর্থতায় বিব্রত তারাও। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল সবার আগে বেরিয়ে যান ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে। এরপর একে একে সবাই। কারো মুখে হাসি নেই। বিষণ্ণ লাগছিল প্রতিটি চেহারা। কেউ যে সান্ত্বনা দেবেন, সেই ভাষাও নেই। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে মুখ লুকাচ্ছিলেন প্রায় প্রত্যেকে।
এমন দিনে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হওয়ার চিন্তা করেননি কেউ। তামিম কিংবা ভারপ্রাপ্ত কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে বার্তা পাঠানো হলেও তারা এড়িয়ে যান। অবশ্য ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে ক্রিকেটারদের ভেতর। গতকাল ম্যাচ শেষ করে হোটেলে ফিরে ভোর চারটায় বেরিয়ে পড়েছিল বিমানবন্দরে উদ্দেশে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইট ছিল তামিম-মুশফিকদের। যথাসময়ে দলের খেলোয়াড়রা বোর্ডে উঠেছিলেন। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় বিমান থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর ফ্লাইটটি ছাড়ে কলম্বো থেকে।
সব মিলিয়ে ম্যাচ খেলার পর বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়ায় প্রত্যেক ক্রিকেটার ছিলেন ক্লান্ত। আপাতত ক্রিকেট থেকে দূরেই থাকবেন ক্রিকেটাররা। ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ শুরু হলে ফিরবেন মাঠে। এর আগে নিজেদের উদ্যোগে ট্রেনিং সেশন তো চলবেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: