বোনের প্রেমিককে হত্যা করে ‘ছেলেধরা’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা!

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে এসে প্রেমিক ফয়সাল হোসেনের (১৮) প্রাণ গেলো। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পশ্চিম এনায়েতনগরের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডটি খানপুর ব্রাঞ্চরোডে আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ঘটেছে বুধবার রাতে।
এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে ৫ জনকে। আটককৃতরা হলেন প্রেমিকার ভাই মো: আসিফ (২০), সাকিব (১৫), মিলন (১৮), সানজিল (১৭) ও সায়েম (১৮)। নিহত ফয়সাল পেশায় ফ্রিজ মিস্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা।
নিহতের বড় ভাই সজিব হোসেন জানান, বুধবার বিকেল ৩টা নাগাদ প্রেমিকা সামিয়াকে দিয়ে প্রেমিক ফয়সালকে বাড়িতে ডেকে নেন সামিয়ার বড় ভাই আসিফ। এ সময় ফয়সালকে আসিফ তার বোনের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বলেন।
ফয়সাল কথা না বাড়িয়ে মোবাইলটি ফেরত দেন। তবে আসিফ ঘটনা এখানেই শেষ করতে চাননি। তার মনে অন্যকিছু ছিল। তাই সে উল্টোপাল্টা কথা বলে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করে। ফয়সাল প্রেমিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে আসিফ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রেমিকার অন্য স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফয়সালের উপর। বেধড়ক পেটাতে থাকেন তারা। এ সময় আসিফ ঘটনাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
পিটুনিতে ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রেমিকার ভাই আসিফ তার বন্ধুবান্ধবদের ডেকে নেন। আসিফের বন্ধুরা গুরুতর আহত ফয়সালকে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় ডিউটি ডাক্তার ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করে।
৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তার সেলিনা জানান, ছেলেটিকে হাসপাতালে যখন আনা হয়েছে তখন সে মৃত ছিলো। হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা গেছে।
এদিকে ছেলে মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের মা শিউলী বেগম খানপুর হাসপাতালে ছুটে আসেন।
তিনি জানান, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর বাসা থেকে বের হয় ফয়সাল। তবে কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে কিছু বলেনি। পরে রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতালে আসেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদন জানান, কীভাবে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: