রেল স্টেশন থেকে বের করে দেয়া হল ৫ চায়নিজ পর্যটককে

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ছবি তুলতে গিয়ে রেল কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়েছেন একদল পর্যটক। এসময় তাদেরকে রেলওয়ে স্টেশন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চায়নিজ নাগরিক লিও লি সহ আরো চারজন কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ঘুরতে এসেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তারা। সর্বশেষ তারা ঘুরতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফেরার পথে আজ তারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।
(শুক্রবার) বিকেলে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে যান লিও লি ও তার বন্ধুরা। সেখানে চাঁদপুরগামী স্পেশাল-২ ট্রেনের যাত্রীদের ছবি তুলছিলেন লিও ও তার বন্ধুরা। এসময় রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা লিও লি’কে ডেকে ছবি তুলতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের সেখান থেকে বের করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন লি’র গাইড জোবায়ের।
এই বিষয়ে লিও লি সিভয়েসকে বলেন, আমরা স্টেশনে ছবি তুলছিলাম। এসময় একজন ব্যক্তি আমাকে ডাকেন। আমার পরিচয় জানতে চান। আমি উনাকে জানালাম আমি একজন পর্যটক। তিনি আমার কাছে কাগজপত্র চাইলেন। আমি উনাকে আমার পাসপোর্ট আর ভিসা বের করে দিলাম। তিনি সেগুলো না দেখেই আমাকে ফেরত দিয়ে দেন এবং আমাকে জানান যে বিদেশিদের ছবি তোলায় নিষেধ আছে। আমি উনাকে বললাম, আমি অনেক জায়গায় ছবি তুলেছি। কোথাও কেউ বাধা দেয়নি। যদি এখানে ছবি তোলা নিষেধ থাকে তাহলে আপনি আমাকে তার প্রমান দেখান। এটা বলতেই উনি রেগে গেলেন। আমার সাথে চিৎকার করে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। এক পর্যায়ে তিনি অন্যদের উদ্দেশ্যে কিছু একটা বলে সেখান থেকে সরে যান। তবে ঐ কর্মকর্তার নাম জানাতে পারেননি লিও।
লিও’র গাইড জোবায়ের সিভয়েসকে বলেন, লিও লি ও তার বন্ধুরা কক্সবাজার গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে আজ চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি করেছে। বিকেলে তাদের নিয়ে আমি স্টেশনে গেছি। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছবি তুলছিল। লি’কে যখন বাধা দেয়া হয়, তখন আমি একটু দূরে ছিলাম। পরে লি আমাকে ঘটনার বিষয় জানিয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে স্টেশনের লোকজন আমাদের স্টেশন থেকে বের করে দিয়েছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রামের পরিদর্শক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘এরকম কিছু হওয়ার কথা না। পর্যটকদের সাথে খারাপ আচরণ করার কথা আমার জানা নেই। যদি হয়ে থাকে এটা দুঃখজনক। প্রায়ইতো বিদেশি নাগরিকরা আসেন। আমরা বরং তাদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদে একটু বেশি ভিড় থাকে। অনেক সময় ট্রেনগুলো ওভারলোড থাকে। বিদেশি কেউ এসব ছবি তুললে দেশের সম্মান ক্ষুন্ন হতে পারে এমন ভাবনা থেকে হয়তো রেলের কোন কর্মকর্তা তাদের বাধা দিয়েছেন। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: