রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা ভারতের

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক সংকট সৃষ্টি করা সত্যেও তাদের প্রতি যে উদারতা দেখানো হচ্ছে তার জন্য ঢাকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে নয়া দিল্লি।
আসিয়ান থেকে প্রকাশিত এ বছরের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে বাংলাদেশের উদারতার এ স্বীকৃতি দিয়েছে ভারত।
একইসঙ্গে দেশটি বিশ্বের দেশগুলোর কাছে রোহিঙ্গাদের কারণে সৃষ্ট মানবিক বোঝা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ২৬তম সম্মেলন চলাকালে গত শুক্রবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
২০৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়নের অংশীদার রাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে যে আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ভারত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো, উন্নত পরিবহন সংযোগস্থল নির্মাণ (স্থল, সমুদ্র, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমানপথ) এবং জনগণের সহজ চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করছে ভারত ও বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও মিয়ানমার দুদেশের মধ্যে সুরক্ষা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত ব্যবধান উন্নত করার জন্য এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি পরামর্শ করার বহুপক্ষীয় ফোরাম এআরএফ। আসিয়ানের সভাপতি হিসেবে থাইল্যান্ড সরকার এ বছরের এআরএফ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
শুক্রবার ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় এআরএফ সম্মেলনে ২৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও সুরক্ষার সাথে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এআরএফ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এ সহযোগিতা চান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: