সাতকানিয়ায় ১৯ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দেশের রাজধানী কিংবা চট্টগ্রাম মহানগরের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এ রোগের বিস্তার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত ৩ সপ্তাহে সাতকানিয়ায় ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুর উদ্দিন।
এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ও অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ জনের নাম পাওয়া যায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত অন্য ৪ জনের নাম ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, অধিকাংশ ডেঙ্গু আক্রান্তরা উপজেলা সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই উন্নত image চিকিৎসার জন্য শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন ফলে বর্তমানে উপজেলার কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে সবধরণের চিকিৎসাসেবা সম্বলিত ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত ও প্রতিকারের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
আবার অনেকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আসা শহুরে বাসিন্দাদের নিকট হতে ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করছেন। তবে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো এ আশঙ্কার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে না দিলেও সবধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।
সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার খবর বাড়তে থাকলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিগত জুলাই মাসে একটি পৃথক ডেঙ্গু নিরাময় ওয়ার্ড চালু করা হয়। নতুন চালু এ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন ডা. রকিবুল হাসান তুহিন। সাতকানিয়া প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় বিগত জুলাই মাসের ১৬ তারিখে । এরপর থেকে উপজেলায় বাড়তে থাকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।
সাতকানিয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হলেন পৌরসভার দক্ষিণ রামপুর এলাকার মো. মেজবাহ উদ্দীন, পৌরসভার চর পাড়া এলাকার গিয়াস উদ্দীন, বাজালিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকার জন্নাতুল ফেরদৌস, একই ইউনিয়নের বড়দুয়ারা এলাকার শওকত ইসলাম, হাসিনা ইয়াছমিন, সানিয়াতুল জন্নাত, কেঁওচিয়া নয়া পাড়া এলাকার মো. হোসাইন, পুরানগড় ইউনিয়নের জামাল উদ্দীন, মো. সাদেক, ধর্মপুর ইউনিয়নের মো. সোয়াইব, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের আবদুল করিম ও কাঞ্চনা বকশিরখীল এলাকার মো. রিদুয়ান।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গতকাল সকালে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে ৭/৯ জন মহিলা ও শিশু লাইনে দাঁড়িয়ে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন। তাদের সকলের চোখে মুখে আতঙ্কের চিহ্ন। তাদের একজন বলেই ফেললেন ডেঙ্গু হলে নাকি মানুষ বাঁচে না। কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছি। সারা শরীর ব্যাথা তাই পরীক্ষা করাতে এসেছি।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য ও স্বাচিপ নেতা ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান বলেন, সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যাতে মহামারি আকার ধারন করতে না পারে।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতদের আসন্ন ঈদুল আযহার ছুটি বাতিল করেছে যাতে কোন ডেঙ্গু রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুর উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য একজন এমওডিসি’র নেতৃত্বে নার্স ও কর্মচারীদের নিয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধও পর্যাপ্ত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখানে ২৪ ঘন্টা ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: