রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

হত্যা, নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় অংশটি আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে৷ এতে স্থানীয়দের জীবনে এসেছে কিছু পরিবর্তন৷
মালয়েশিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ-
গত মে মাসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খুব গুরুত্ব পেয়েছিল খবরটি৷ রমজান মাসে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করে মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী৷ আটককৃতদের মধ্যে দু’জন ছিলেন রোহিঙ্গা৷ পুলিশ জানায়, রোজার সময় কুয়ালালামপুর এবং আশেপাশের এলাকায় অনেক মানুষকে হত্যা ও সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল ওই চারজন৷
জার্মান সাংবাদিকদের উপর হামলা-
গত ফেব্রুয়ারিতে মা ও দুই শিশু কন্যাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের উখিয়ায় তিন জার্মান সাংবাদিকসহ চার ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় রোহিঙ্গারা৷ হামলার সময় সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট চালানো হয়৷
মাদক পাচারে রোহিঙ্গা-
দু’ দিন আগে টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারীকে আটক করে কোস্টগার্ড জওয়ানেরা৷ এমন খবর এর আগেও এসেছে সংবাদমাধ্যমে৷
হামলা, হত্যাসহ নানা অপরাধ-
রোহিঙ্গাদের হামলা, হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়ানোর খবর আসছে ২০১৭ সাল থেকে৷ সে বছর এক মাসে রোহিঙ্গাদের অন্তত ৩০টি অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করে টেকনাফ ও উখিয়া থানা৷ রোহিঙ্গাদের হামলায় তখন কমপক্ষে দু’জন পুলিশও আহত হয়৷
বৌদ্ধদের ঘরে আগুন লাগানোর চেষ্টা-
এক বৌদ্ধ তরুণ ফেসবুক পোস্টে কোরানের অবমাননা করেছেন— এমন অভিযোগ তুলে ২০১২ সালে রামুতে ৩০০ বছরের পুরোনো এক বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হয়৷ জ্বালিয়ে দেয়া হয় সেই মন্দির৷ স্থানীয় বৌদ্ধরা তখন থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ রাতে বৌদ্ধদের বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অনেকবার৷
ক্রসফায়ারে রোহিঙ্গা ‘সন্ত্রাসী’-
সম্প্রতি পুলিশ জানায়, গত দুই বছরে কক্সবাজার এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৩৩ জন রোহিঙ্গা৷ পুলিশের দাবি, নিহতরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধকর্মে জড়িত ছিলেন৷ তবে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বলেছে, ওই ৩৩ জন ক্যাম্পের বাইরে নিহত হয়েছেন বলে তারা রোহিঙ্গা কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়৷
রোহিঙ্গা শিবিরে খুন-
মাতৃভূমি মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভেতরেই বিভিন্ন সময় অপরাধে জড়িয়েছে৷ গত দু’ বছরে ক্যাম্পের ভেতরেই খুন হয়েছে ৪৩ জন৷
দেহব্যবসায় জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা নারীরা-
কেউ ইচ্ছায়, কেউ অনিচ্ছায় জড়াচ্ছেন এই পেশায়৷ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেহব্যবসায় রোহিঙ্গা মেয়ে এবং নারীদের যোগ দেয়ায়ও বাড়ছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী৷
মোবাইল ব্যবহার-
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইন-শৃংখলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের আর মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ না দেয়ার জন্য অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি৷ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের কাছে অন্তত পাঁচ লক্ষ মোবাইল রয়েছে৷
ধ্বংসের মুখে কক্সবাজারের বন-
গত এপ্রিলে ‘অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স’ সাময়িকীতে ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং পরিবেশ’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে জানানো হয় ২০১৭ সালে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা আসার পর টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হিমছড়ি ও ইনানী জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ এতে দুই হাজার হেক্টর বন ধ্বংস হয়েছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে৷

Leave a Reply

%d bloggers like this: