আদালতে সুচি: পাশে চীন ভারত রাশিয়া

মিয়ানমারে রােহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলার শুনানি
শুনানিতে অংশ নিতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান এবং রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি
ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সেখানে গেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলাে। আর এই
প্রস্তুতিতে তিনি সু চি, ভারত, চীন এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহযােগিতা পাচ্ছেন বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা সবচেয়ে বড় কথা হলাে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের তিন বিচারক হলেন চীন, ভারত এবং রাশিয়ার নাগরিক। তারা মিয়ানমারের প্রতি পক্ষপাত করবেন বলে আশংকা করছেন অনেকেই।
অবশ্য বেশ আগে থেকেই বােঝা যাচ্ছিল যে, রােহিঙ্গা নিধনের সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও সেদেশের সরকার ভারত, চীন এবং রাশিয়ার সমর্থন পাচ্ছে। দুদিন আগেই সু চি নেদারল্যান্ডসের পথে যাত্রা করার আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। রােহিঙ্গাদের কীভাবে বিদেশি প্রমাণ করা যায় সে বিষয়ে সু চিকে চীন, ভারত, রাশিয়ার কূটনীতিকরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে শােনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিয়ানমারের সাথে এসব দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত বলেই এমনটা করছেন তারা।
ভৌগােলিক অবস্থানের কারণে ভারত ও চীনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। ভারত তার সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাথে যােগাযােগ সহজ করতে, কলকাতা থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতো বন্দর হয়ে মিজোরাম পর্যন্ত জল ও স্থলপথে কালাদান নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দেশটি পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে দিল্লি থেকে মিয়ানমার হয়ে।
থাইল্যান্ড পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ কিলােমিটার সড়ক পথ গড়ে তুলতে চায় ভারত অন্যদিকে, চীন মিয়ানমারে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের পাশাপাশি কোয়াকু বন্দর এবং ৪ হাজার একরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করছে। রাশিয়া ও দেশটিতে বিনিয়ােগ ও বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন,
এসব কারণে বহু আগে থেকেই মিয়ানমারের পক্ষে অবলম্বন করে আসছে তিন পরাশক্তি চীন, ভারত, রাশিয়া।

Leave a Reply

%d bloggers like this: