কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোড এলাকা হবে আধুনিক উপশহর

শাহী কামরান ॥
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার কক্সবাজার ঘিরে অনেক প্রকল্পের উদ্যোগ রয়েছে। সব ঠিক থাকলে এবং সব কিছু বাস্তবায়ন হলে সেসকল প্রকল্পের প্রভাব পড়বে লিংক রোড় স্টেশন সহ আশেপাশের এলাকায়।এই এলাকায় আবাসন ব্যবসার গতি প্রকৃতি পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ বছরে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের উপশহর সম্ভাবনাময় লিংকরোড এলাকা। লিংকরোড স্টেশন,মুহুরী পাড়া,বিসিক শিল্পনগরী,চেইন্দা,চান্দের পাড়া,পিএমখালী ইউনিয়নসহ বাংলাবাজার,খুরুস্কুল ইউনিয়ন ঘিরে উপশহর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার যোগাযোগের কেন্দ্র হবে লিংকরোড স্টেশন। তাছাড়া কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই লিংকরোড আধুনিক উপশহর হবে এমনটায়ই মনে করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।
কক্সবাজার শহরে যে সকল উন্নয়নের কাজ চলমান তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, কক্সবাজার রেললাইন,কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ,দেশের বৃহৎ রামু সেনানিবাস,খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প,টেকনাফ টুরিস্ট স্পট,উখিয়া টেকনাফ সড়ক ও কক্সবাজার চট্রগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করণসহ আরো অনেক প্রকল্প। এসব বাস্তবায়ন হলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে লিংকরোড এরিয়া। তাছাড়া কক্সবাজার জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও লিংকরোড এলাকায় অবস্থিত।
কক্সবাজারের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লিংকরোড ও আশেপাশের এলাকা আবাসিক এলাকা হিসেবে গণ্য হবে। এসব জায়গাতে আবাসিক ভবন ও প্লট ব্যবসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া কক্সবাজার শহরে শব্দ দূষণ,বায়ু দূষণসহ নানা সমস্যার কারণে সচেতন মানুষ নিরিবিলি পরিবেশটাই বেছে নিবেন। লিংকরোড এরিয়া জুড়ে যায়গা জমির দাম ও জীবন যাত্রার মান দিন দিন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। রেললাইন স্টেশন লিংকরোড এলাকায় হবার কারণে ব্যবসায়িরা দ্বিগুন সুযোগ সুবিধা পাবেন। বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ফ্যাক্টরীসহ জনবহুল হয়ে উঠার সম্ভাবনাও অধিক। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও স্থানীয়দের বিনোদনের জন্য এই লিংকরোড এরিয়া অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারনা করছেন অনেকে। তাছাড়া লিংকরোড এলাকা সংশ্লিষ্ট চার ইউনিয়ন যথাক্রমে,ঝিলংজা,পিএমখালী,খুরুশকুল ও মিঠাছড়ি ইউনিয়ন যোগাযোগের ব্যবস্থাও লিংকরোড নির্ভর।
স্থানীয়দের ধারণা, আধুনিক উপশহর সম্ভাবনাময় লিংকরোড এরিয়া নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। অথচ লিংকরোড এলাকাজুড়ে এখনো পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় জনসাধারন।এখানে দিনে দুপুরে এখনো চুরি ডাকাতিসহ ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ঝিলংজা ও পিএমখালী ইউনিয়নসহ মিঠাছড়ী ইউনিয়নের অন্তত ২০০ পাহাড় সাবাড় করেছে পাহাড় খেকোরা। তাই স্থানীয়দের দাবি, উক্ত এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা,প্রাকৃতিক সম্পদ ও সোর্ন্দয্য রক্ষা করা জরুরী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: