দেশের জঙ্গিদের ৫৬ শতাংশই গ্র্যাজুয়েট!

বাংলাদেশে জঙ্গি সন্দেহভাজনদের ৫৬ শতাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (গ্রাজুয়েট) সম্পন্ন করা- এমনটাই জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ২০১৬ সাল থেকে জঙ্গি সন্দেহভাজন হিসেবে আটকদের নিয়ে করা এক গবেষণার ভিত্তিতে এ তথ্য দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর সমাপনী দিনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন সিটিটিসির ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসিইউ), ইউএসএইড ও জাতিসংঘ।
গবেষণা উপস্থাপনায় সাইফুল ইসলাম জানান, জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়া তরুণদের বেশিরভাগই পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। অনেকে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীও। এ বছরের এপ্রিলে ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকায় হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। ঢাকার হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন কয়েকজন শিক্ষিত তরুণ।
সাইফুল ইসলাম আরো জানান, সিটিটিসি ইউনিটের গবেষণায় দেখা গেছে, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদে জড়িতদের ৮২ শতাংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন।
তবে দেশে জঙ্গি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ‘দাওয়া ইলাল্লাহ’ নামে একটি উগ্রবাদী ফোরামের সদস্য ছিল ৫৫০ জন। বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। সংখ্যায় বৃদ্ধি পেলেও দেশের জঙ্গি কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কমেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় জঙ্গি কার্যক্রম কমেছে ৯০ শতাংশ।
সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়লে কঠিন পদক্ষেপের কথা বলেন সিটিটিসির ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা সাধারণত গ্রুপবদ্ধ থাকে। সন্ত্রাসী গ্রুপটিকে নিরস্ত্র করতে হবে, তাদের কার্যক্রম সমূলে উৎপাটন করতে হবে। যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, সন্ত্রাসী গ্রুপকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: