পর্নের মতো বিক্রি হচ্ছে ধর্ষণের ভিডিও

ভারতের উত্তর প্রদেশে পর্ন ভিডিও’র মতো দোকানে বিক্রি হচ্ছে ধর্ষণের ভিডিও। এই সব ভিডিও ভারতীয় মুদ্রায় ২০ হতে ২০০ রুপির বিনিময়ে মোবাইল ফোনে শেয়ার করে দিচ্ছেন দোকানদার। এই ভিডিওতে নির্যাতনের শিকার নারীর মুখ পরিষ্কার দেখা যায় এবং ভিডিও’র শব্দও থাকে অত্যন্ত পরিষ্কার।
উত্তর প্রদেশের মীরাট শহরে এমন চিত্র দেখা যায়। শহরটি ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনের জন্যই বেশি পরিচিত। স্থানীয় সূত্র জানায়, সেখানে পাশের গ্রামেই ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়। এলাকার বাইরের লোকদের কাছে এসব ভিডিও বিক্রির ক্ষেত্রে দোকানদার সাবধান থাকেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মীরাট শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ইঞ্চলি নামের গ্রামের এক ব্যক্তি ধর্ষণের ভিডিও কিনে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধিকে দেখাতে রাজি হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ওই ব্যক্তি জানান, সাধারণত এই ভিডিওগুলো বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। তিনি এ সম্পর্কে শুনেছেন, ‘এই ভিডিওগুলো নির্যাতনের শিকার নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ধারণ করা হয়, যাতে করে ওই সব নারীরা যেন থানায় গিয়ে তাদের নামে অভিযোগ না করেন।’
তিনি আরো জানান, অপরাধী ব্যক্তি তার নষ্ট মোবাইল ভালো করার জন্য দোকানে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ভিডিওগুলো চুরি করা হয়। এরপর চুরি করা ধর্ষণের ভিডিও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। অধিকাংশ দোকানদার স্থানীয়দের কাছে ভিডিওগুলো বিক্রি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন, আর স্থানীয় সেটা বুঝতে পারলে তারা অস্বীকার করেন।
কয়েকজন দোকানদার এই সব ভিডিও আল জাজিরা’কে দিতে সম্মত হন। তাদের মধ্যে একজন স্বীকার করেন যে, তার কাছে অনেকগুলো ‘স্থানীয় চলচ্চিত্র’ (ধর্ষণের ভিডিও) ছিলো। তাদের ব্যবসায় একটা বিশেষ গোপন রীতিও আছে।
একবার একটি ধর্ষণের ভিডিও একজন ডিলারের কাছে পৌঁছালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কার্যত ভারতের এই অংশে ধর্ষণের ভিডিওগুলোকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ সেক্স ভিডিও’ নামে পরিচিত।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমে অবস্থিত শাহারানপুর গ্রামের একজন সহজেই স্বীকার করলেন যে, তিনি প্রায়ই পর্ন ভিডিও কেনেন- বিশেষ করে ধর্ষণের ভিডিও। তিনি এগুলো পাশের গ্রাম থেকে কিনেছেন। দোকান থেকে তিনি যে ভিডিওগুলো কিনেছেন, সেগুলো অন্য ক্রেতারা দোকানদারের কাছে বিক্রি করেছেন। তার ল্যাপটপে এই ভিডিওগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন এবং ধর্ষণের ভিডিওকে ‘পর্নোগ্রাফি’ হিসেবে লিখেছেন।
তিনি আরো বলেন, তিনি এই ভিডিও গুলো দেখেন কারণ এগুলো তার ‘মনকে শান্তি’ দেয়।
যখন গ্রাহকরা সর্বশেষ ধর্ষণের ভিডিও সম্পর্কে সজাগ, তখন স্থানীয় পুলিশ যেন এসব বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। এ বিষয়ে সাহারানপুর পুলিশ রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক জে কে শাহাই জানেনই না ‘ধর্ষণ ভিডিও’ কী!
আল জাজিরা’র প্রতিনিধিকেই তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ধর্ষণের ভিডিও, এটা কী?’ বিষয়টি জানার পর তিনি বলেন, ভিডিওসহ যদি তাকে দেয়া হয়, তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে মীরাট পুলিশের মহাপরিদর্শক অজয় আনন্দ বলেন, ‘সম্প্রতি আমি এখানে বদলি হয়ে এসেছি। তাই আমার কোনো ধারণা নেই যে, বাজারে ধর্ষণের ভিডিও বিক্রি হচ্ছে। আমি মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আমি এই সব ভিডিওগুলোর সত্যতা সম্পর্কেও জানিনা। তাই কোনো মন্তব্য করার আগে আমি এই ভিডিওগুলো দেখবো।’
শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে এই ধরনের একাধিক ভিডিও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় আল জাজিরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯২টি নারী নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ভারতের জাতীয় অপরাধ ব্যুরোর। যা তার আগের বছরের তুলনায় ৯ ভাগ বেশি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: