‘বন্ধু ভারত’ আতঙ্ক সৃষ্টির কিছু করবে না: আশা বাংলাদেশের

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের এনআরসি তথা অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যু। এই নিয়ে সরগরম দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন। সরগরম হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা, ‘বন্ধুপ্রতিম ভারত বাংলাদেশের আতঙ্ক সৃষ্টি করার মতো কিছু করবে না।’
ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।’
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, ‘ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ একটি মাস। এই মাসে তারা দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং ভারতের সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের ভিসা, আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও তাদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে বলেও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
অনুষ্ঠানে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ও কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তৃতা করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: