বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে এ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ইউএনএইচসিআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস শেষবার ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এবারের সফরে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় মানবিক কর্মকান্ডের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যেবেক্ষণ করেছেন। এর সাথে স্থানীয় বাংলাদেশী জনগণের ওপর রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রভাব ও মানবিক কর্মকান্ডের চ্যালঞ্জগুলো সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।
তিনি নয়াপাড়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি, স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউএনএইচসিআরের যৌথ নিবন্ধন কার্যক্রমের ব্যাপক অগ্রগতি লক্ষ্য করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউএনএইচসিআরের যৌথ নিবন্ধন প্রক্রিয়া সমাপ্তের পথে। ইতিমধ্যে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
কুতুপালং রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শনের পর কেলি ক্লেমেন্টস বলেন, শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিরাট অর্জন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও মানবিক সাহায্য যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাবে। শরণার্থীদের অনেকের জন্যই এটি জীবনে পাওয়া প্রথম পরিচয়পত্র।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চলতি বছর ৯৫ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্বেও মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের ও স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার সফরকালে কেলি ক্লেমেন্টস জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সাথে টেকনাফে স্থানীয় বাংলাদেশী জনগণের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এ সময় রোহিঙ্গাদের জন্য চলমান মানবিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান কেলি ক্লেমেন্টস।

Leave a Reply

%d bloggers like this: