বেশ কিছু শ’র্তে আ. লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কাদের!

আগামী ২০ এবং ২১ ডি’সেম্বর আওয়ামী লীগের কা’উন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভাপতি ছাড়া সবপ’দে পরিবর্ত’ন হবে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ টান টান উত্তে’জনায় ভরিয়ে তুলেছে। নানা জন নানাভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মনোভাব জানার নানান সমী’করণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটা’চ্ছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নে’তা নিশ্চিত করেছেন যে, এবার আওয়ামী লীগ একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পা’দক নেবেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
তিনি একাধিক বক্তৃতায় দলীয় নেতা কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। দীর্ঘদিন অর্থাৎ টানা তৃতীয় মে’য়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নানা মতের নানান সুবিধাবাদী মানুষ, তাঁদের আর্থিক শক্তিও খুব বেশি। তাই সব পক্ষকে ব্যাল্যা’ন্স করেও দল ও আদর্শের জন্য ত্যাগী কর্মী, সমর্থক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীদের নিয়ে ভালো ক’মিটি উপহার দিতে চার বঙ্গবন্ধু কন্যা। ১০০ ভাগ না হলেও অনেকটাই সাফ সুতরো করে নিতে চান তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ক’মিটি, যেমনটি তিনি কিছুটা হলেও করেছেন মহিলা এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে।
কাজ পাগল ওবায়দুল কাদের যে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে কতটুকু লোড নিতে পারবেন তা ভাবাচ্ছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে। একই সাথে যে কয়টি মেগা প্রকল্প এই সরকার বাস্তবায়নের চ্যা’লেঞ্জ নিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হল পদ্মা সেতু আর মেট্রো’রেল। এই প্রেক্ষাপটেই ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক থাকবেন নাকি মন্ত্রী থাকবেন সেই সিদ্ধা’ন্তের বিষয়টি নাকি জনাব কাদের শেখ হাসিনার হাতেই অর্পণ করেছেন বলে ওবায়দুল কাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে যে, ওবায়দুল কাদের আরেক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পা’দক থাকবেন সেই সাথে তিনি কিছুদিন মন্ত্রীও থাকবেন। এমন অবস্থা হলে একজন দ’ক্ষ কাউকে সড়’ক পরিব’হন ও সেতু মন্ত্রণালয়য়ের প্রতি মন্ত্রী করা হবে, তিনিও সব দা’য়িত্ব পালন করবেন যতদিন না পদ্মা সেতু আর মে’ট্রোরেল প্রকল্প শেষ না হয়। এক্ষেত্রে জনাব ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হয়েও অনেকটা উপ’দেষ্টার মত দায়ি’ত্ব পালন করবেন।
সংগঠক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প এখনো কেউ হয়ে উঠতে পারেন নি বলে দলের সভাপতি মনে করেন। কারণ ওবায়দুল কাদেরের মত এত দীর্ঘ সময় বঙ্গবন্ধুর আদ’র্শের সৈ’নিক হিসেবে সারাদেশ কেউ চষে বেড়াননি। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি থাকায় সারা দেশে তার আছে বিশাল নেট’ওয়ার্ক। বিশ্বস্ততা, দলের প্রতি আনুগত্য, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা যেমন আছে ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগারদের মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশই তার ব্যক্তিগত পরিচিতই শুধু নন, তাঁদের ব্যক্তিগত আম’লনামার খবরও তার কাছে আছে।
ওবায়দুল কাদেরের বি’রুদ্ধে আর্থিক কেলে’ঙ্কারির স্বপক্ষে প্রমাণ খুব দুর্বল, মাত্রাগত দিক বিবেচনায় তিনি অনেকের চেয়ে ভালো বলে শেখ হাসিনার কাছে নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য ত’থ্য আছে। ওবায়দুল কাদের ধোয়া তুলসী পাতা না হলেও তিনি যা করেছেন তা দলীয় স্বার্থেই করেছেন, প্রায় সব কিছুই দলীয় সভাপতির গোচরে এনেই কিছু সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছেন যার অনেকগুলো পরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাবেক অনেক দুর্নী’তিবাজ এ’মপি এখন সরকারের বিভিন্ন গোয়ে’ন্দা সং’স্থার সো’র্স হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, এখানে ওবায়দুল কাদেরের বড় অবদান আছে।
উপরে বর্ণিত অবস্থার আলোকে এটা এখন প্রায় নিশ্চিত যে, জনাব ওবায়দুল কাদের আরেক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক থাকবেন সেই সাথে তিনি কিছুদিন নাম’কা ও’য়াস্তে মন্ত্রীও থাকবেন তবে তার সাথে একজন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন যিনি মন্ত্রণালয়য়ের সব কাজ দেখভাল করবেন, কিন্তু জটিলতা দেখা দিলে ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাহায্য নেবেন। পদ্মা সেতু আর মেট্রো’রেলের মত মেগা প্রকল্প শেষ হলে জনাব ওবায়দুল কাদের ফু’ল টাই’ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে যদি তার শরীর ঠিক থাকে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প’দ পাবার দৌড়ে জনাব ওবায়দুল কাদের তার আসন চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে একটি বিশেষ সূত্রে জো’র দা’বি করা হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: