রোহিঙ্গাকাণ্ডে মার্চে গড়াল হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া

ভোটার তালিকায় নতুন করে প্রায় ১ কোটি ভোটার যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হবে এক লাখ নতুন ভোটার। চলমান হালনাগাদের খসড়া তালিকার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। তবে আইন অনুয়ায়ী আগামী জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে না পারার কথা জানিয়েছে ইসি। ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে খসড়া প্রকাশের কথা ভাবছেন তাঁরা। চলমান হালনাগাদে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলমান হালনাগাদ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৯০ লাখ ৬৬ হাজার ভোটারের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংখ্যা কোটি ছাড়াতে পারে। তবে ভোটার তালিকা আইনে ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদের তথ্য প্রকাশের যে নির্দেশনা আছে তা এবার কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য বর্তমান ভোটার তালিকা আইনের সংশোধন আনতে এর মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আইন সংশোধনের জন্য বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি কেবিনেট হয়ে সংসদে আসবে। সেক্ষেত্রে সময়ের ব্যাপারও রয়েছে। ইসির হাতে সময় খুব বেশি নেই। এমন অবস্থায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে ধোয়াশায় রয়েছে কমিশন।
তবে ২ জানুয়ারির আগে আইনটি পাশ হয়ে গেলে ২০ জানুয়ারি হালনাগাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে, ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ভাবছে ইসি।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, প্রতি বছর ২ জানুয়ারি ভোটার হালনাগাদের তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে এবার সেটা মনে হয় সম্ভব হচ্ছে না। ২০ জানুয়ারি এই তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে আসবে। সেক্ষেত্রে যদি কেউ তালিকা থেকে বাদ যায় তারা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে আমরা চূড়ান্ত তালিকায় তাকে যুক্ত করে নিবো।
ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে ইসির তৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টিকে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। আমাদের তথ্য সংগ্রহকারীরা একদম বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেই তথ্য সুপারভাইজাররা দেখেছে। তারপর রেজিষ্ট্রেশন অফিসাররা চেক করেছেন। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিশেষ কমিটি করে বিষয়টি চেক করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। সর্বশেষ ঢাকায় আমাদের পাঠানো তথ্যের সাথে রোহিঙ্গা ডাটাবেজের তথ্য ক্রসচেক করা হয়েছে। এতসব প্রক্রিয়া পার হয়ে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের কেউ যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, চলামান হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিলে। এবারের হালনাগাদে (১৫-১৮ বছর বয়সি) চার বছরের তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম এ রকম নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবার। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের নাম ২০২০ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যাদের বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: