রোহিঙ্গা নিপীড়নের দায়ে শান্তিতে নোবেল জয়ী সুচির কঠোর শাস্তি দাবী করছে রোহিঙ্গারা

মঈনুল হাসান পলাশ ॥
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিম আাফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া।
আজ ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে এই রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি হবে।
শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে অংশ নিতে ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। আজ গাম্বিয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওই শুনানি শুরু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচার শুরু হচ্ছে,এই খবর পৌঁছে গেছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের কাছে।
এই সম্পর্কে ক্যাম্প ১৭এর একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা বলেন, তাদের সকল দাবি রয়েছে তা মেনে নিয়ে যাতে সুচিকে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হয় এবং আমাদের দেশ আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
একই ক্যাম্পের নুর ফয়েজ,(৫১) বলেন সুচি যেভাবে আমাদের জাতির উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং নারীদের নির্যাতন করেছেন তার জন্য তাকে বিশ্ব আদালতে এনে শাস্তি দিয়ে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
জানা যায় গাম্বিয়া এবং মিয়ানমার উভয়ই ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, মায়ানমার তা লংঘন করে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প ৫ এর বি ব্লকে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ঠান্ডা মিয়ার ছেলে ফুরুক উদ্দিন, (৫০) , জানান, সুচি ও তার মিলিটারির দল দিয়ে যে ভাবে মায়ানমারে নারীদের ধর্ষণ
করেছে ও শিশু হত্যা করেছে, তার জন্য তাকে এবং তার দল সহ সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। সেই সাথে বিচারের মাধ্যমে তারা তাদের মাতৃভূমি ফিরে পেতে চান।
আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার শুরু হওয়ার খবরে রোহিঙ্গারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এর প্রেক্ষিতে তাদের কয়েকটি দাবি রয়েছে,
১. এই মামলার রায়ে তাদেরকে রোহিঙ্গা মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।
২. নিজ দেশে ফিরে নিয়ে যাওয়া রায় দিতে হবে।
৩. তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে, নিজেদের সকল সম্পত্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. মায়ানমারের নাগরিক সনদ প্রদান করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্প ৫ অবস্থানকারী এক যুবক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের দেশে আমরা ফিরে যেতে রাজি আছি এবং তার জন্য আমাদের সকল অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
মোহাম্মদ ফিরোজ (৪২) নামের এক রোহিঙ্গা তার মতামত দেন এভাবে, তারা তো সুচির মামলা সম্পর্কে সবকিছু জানেন, কিন্তু সেখানে তাদের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী থেকে শুধুমাত্র তিনজন নিয়ে গেলে কি হবে? তার ফলে তিন রোহিঙ্গা আদালতে কখনোই ১২ লাখ জনগণের সমস্যার কথা বলতে পারবে না। অন্যদিজে সুচি তার পক্ষ্য বলার জন্য অনেক বুদ্ধিমান লোকজন নিয়ে যাবে। তাই তিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষ
হয়ে যারা মামলা লড়ছে তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। যেন ঠিকভাবে মামলা লড়ে এবং সুচি ও তার সাথে যারা জড়িত তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি আওতায় আনা হয়।যারা রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কষ্ট করে মামলা চালাচ্ছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গারা।
ক্যাম্প ৫ এর সি ব্লকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, যদি সুচিকে যথাযথ শাস্তি ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ যদি প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে তারা নিজ দেশে ফিরে যাবেনা। তারা বলেন,আমরা সঠিক ভাবে জানিনা, কে বা কারা সুচির বিরুদ্ধে আমাদের হয়ে মামলা করেছে। তবে এই মামলার কথা শুনে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। আশা করছি এই মামলার শুনানির পরে আমরা ভালো কিছু পাবো, এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবো।
যারা আমাদের বিষয় নিয়ে মামলা করেছে তাদের প্রতি আমাদের পক্ষ্যে থেকে বিশেষ ভাবে দোয়া ও কৃতজ্ঞতা জানালাম

Leave a Reply

%d bloggers like this: