লোহাগাড়ায় থামছে না বন্যহাতির তান্ডব: জনমনে আতঙ্ক

লোহাগাড়ায় উপজেলার লোকালয়ে থামছে না বন্যহাতির তান্ডব। অব্যাহত তান্ডবে বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এতে লোকালয় পরিণত হয়েছে আতঙ্কের জনপদে।
সর্বশেষ উপজেলার পদুয়ার তেওয়ারীখিল মকবুল আহমদ মাস্টারের বাড়ীসহ ৩ বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্যহাতি। তবে কেউ হাতাহত হয়নি।
১২ ডিসেম্বর ( বৃহস্পতিবার) দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানায়ী ইউপি সদস্য কাউছার সিটিজি টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজবিলায় হাতির আক্রমণে নুরুল ইসলাম নামে নিহত হন। এ সময় হাতির তান্ডবে বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ি ফসল ও ৫ টি নলকূপ ভাংচুর করে বলে সিটিজি টাইমসকে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন ।
গত ১১ ডিসেম্বর ( বুধবার) রাতে লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজানে নির্মাণাধীন একটি ব্রীজের পাহারাদার মো:শাহাব উদ্দিন ( ৫৫) দায়িত্ব পালনের সময় বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ হারান।
এ নিয়ে এক সাপ্তাহের মধ্যে হাতির আক্রমণে ২ জন নিহত হন । ওই সময় এলাকার গাছপালা ও ফসলের ক্ষতিসহ বেশকিছু বসত বাড়ি ভেঙে চুরমার করে বন্যহাতির পাল।
এছাড়া চরম্বার মাইজবিলা ও চুনতির পানত্রিশা কোনো না কোনো গ্রামে প্রতিদিনই তান্ডব চালিয়ে বসতবাড়ি ও ফসল বিনষ্ট করে চলেছে। সাপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও এখনো পর্যন্ত বন-বিভাগ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, লোকালয়ে বন্যহাতি দফায় দফায় তান্ডব চালিয়ে অভিনব কায়দায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, আমন ধান ও গাছপালা সাবাড় করে যাচ্ছে। এসব হাতির কবল থেকে ফসল রক্ষা করার চেষ্টা করা হলেও বন্যহাতি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।
এ ব্যাপরে পদুয়া বন কর্মকর্তা মো: সরওয়ার জাহানের কাছ থেকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবে বলে মুঠোফোন কেটে দেন।
বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুরুল আলম সিটিজি টাইমসকে জানান, ক্ষেতে ধান পাকলে ফসলি জমিতে পাহাড়ি হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়। হাতিদের বিরক্ত না করলে হাতিরা সচরাচর মানুষের উপর আক্রমনাত্মক হয়না। বাধা পেলে বন্য হাতি মানুষের ওপর আক্রমণ করে বসে।
হাতিরা যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি করবে তা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি বিধান আছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: