সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঋণের মাধ্যমে চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১জনের চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সংস্থাটির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। শিগগিরই তা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান প্রনব।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে গত ১০ জুলাই মামলা দায়ের দুদক। দায়ের করা ওই মামলায় বিচারপতি এস কে সিনহা ও ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীমসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
এস কে সিনহা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।
চার্জশিটে নতুন করে আগত আসামি হলেন- দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী)।
অন্যদিকে এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদ তদন্তকালে মৃত্যুবরণ করায় তাকে অত্র মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে চার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে তা একই দিনে পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুটি একাউন্ট খোলেন। পরের দিন ৭ নভেম্বর তাদের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য দুই কোটি টাকা করে চার কোটি টাকার ঋণ আবেদন করেন।
তাদের ব্যাংক অ‌্যাকাউন্ট ও ঋণ আবেদনে এস কে সিনহার উত্তরার (১০ নম্বর সেক্টর, রোড নং-১২, বাড়ি -৫১) ঠিকানা ব্যবহার করেন তারা। এছাড়া ঋণের জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করেন। এই দম্পতি এস কে সিনহার সাথে আগে থেকেই পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ।
সূত্র জানায়, ঋণ প্রস্তাব কোনো যাচাই-বাছাই না করে ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে ব্যাংকটির সে সময়ের এমডি আসামি এ কে এম শামীম ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুটি ঋণ অনুমোদন করেন।
ঋণ আবেদনের পরের দিন ৮ নভেম্বর পৃথক দুটি পে-অর্ডার এস কে সিনহার নামে ইস্যু করা হয়। যা পরের দিন ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ‌্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে বিভিন্ন সময় ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা উঠানো হয়।
এর মধ্যে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যাংক হিসাবে একই বছরের ২৮ নভেম্বর দুইটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। আসামি রনজিৎ চন্দ্র ঋণ দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রভাব ব্যবহার করেছেন।
রনজিৎ চন্দ্রের ভাতিজা হলেন ঋণ গ্রহীতা নিরঞ্জন এবং অপর ঋণ গ্রহিতা শাহজাহান রনজিৎ চন্দ্রের ছোট বেলার বন্ধু। ঋণ গ্রহীতা দুইজনই অত্যন্ত গরিব ও দুঃস্থ। তারা কখনও ব্যবসা-বাণিজ্য করেননি বলেও এজাহারে বলা হয়। আসামি এস কে সিনহা অপর আসামি রনজিতের মাধ্যমে অন্যান্য আসামিদের ভুল বুঝিয়ে কাগজপত্র স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা করেন। উক্ত ঋণের চার কোটি টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি।
অর্থের উৎস এবং অবস্থান গোপন করে পাচারের প্রচেষ্টা করার দায়ে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২), (৩) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: