সু চির বক্তব্যের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানির দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেয়া অং সান সু চি গণহত্যা চালানো হয়নি বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গাদের দাবি, সু চির নির্দেশে সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। যার পর্যাপ্ত প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে রয়েছে।
গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপন করে গত নভেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত ‘আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে’ ওআইসির পক্ষভূক্ত হয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে গাম্বিয়া। ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে গণহত্যা নিয়ে আইসিজের অভিযোগের ৩ দিনের শুনানী।
বুধবার শুনানীর দ্বিতীয় দিন ছিল মিয়ানমারের পক্ষে চুক্তি উপস্থাপনের সময়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি যখন আদালতে বক্তব্য রাখছিলেন তখন এ বক্তব্য শুনেছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন দোকানে টেলিভিশনে এ বক্তব্য শুনেন তারা।
মিয়ানমারের পক্ষে আদালতে সু চি বলেন, আদালতে গাম্বিয়ার অভিযোগ অসম্পূর্ণ ও ভুল। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা মিয়ানমারে সামরিক সংঘাতের ফল। রাখাইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে আরসা, আরসার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়। এতে আরাকানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে, দোষীদের সামরিক আইনে বিচার হবে।
সু চির এই বক্তব্যকে বিভ্রান্তকর মিথ্যা দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা। তারা বলেছেন, সু চির নির্দেশে সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিব উল্লাহ বলেন, সু চি দায়মুক্তির জন্য বক্তব্য দিয়েছেন। অথবা সুচি রাখাইনের পুরো পরিস্থিতি জানেন না। তাদের কাছে যে প্রমাণ রয়েছে তা গণহত্যা প্রমাণে যথেষ্ট।
আইসিজে’তে শুরু হওয়া বিচারকার্যটি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক সফলতার প্রাথমিক ধাপ। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: