হু আর ইউ? তাপসকে দুদক চেয়ারম্যান

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ইস্যুতে প্রশ্ন তোলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের কঠোর সমালোচনা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে ‘মিট দ্যা প্রেস উইথ ওয়ার্ক’ অনুষ্ঠানে দুই মাস আগে করা তাপসের বিভিন্ন মন্তব্যের জবাব দেন।
গত ১৪ অক্টোবর বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-জিগাতলা) আসনের আলোচিত এই সাংসদ।
এবিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি বলার কে? তার এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার নেই। আবদুল হাই বাচ্চুর নাম যোগ করবো কি করবো না, এ বিষয়ে বলার আপনি কে? হু আর ইউ?’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনি কি ইনভেস্টিগেশন করছেন? কে কি বলছে দ্যাট ইজ নট আওয়ার কনসার্ন। এটা একটা পাবলিক ইন্সটিটিউশন। আপনি আমার পদত্যাগ চাইতে পারেন, অনেক কিছুই চাইতে পারেন, সেটা সমস্যা না।’
‘কিন্তু আপনি কে, যে প্রশ্ন করছেন বাচ্চুর নাম আসছে, কি বাচ্চুর নাম আসেনি? এটা তো আন্ডার ইনভেস্টিগেশন। বাচ্চুর নাম আসবে না আপনি জানেন কেমনে? হু আর ইউ? ইনভেস্টিগেশন করার ম্যান্ডেট তো আমাদের, ম্যান্ডেট তো আপনার না। আপনি রিক্রিয়েট করলে তো হবে না বাচ্চুর নাম দেন বা দিয়েন না। সে যেই হোক না কেন, কারও কথা আমরা কেয়ার করি না।’
ওইদিন সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেছিলেন, ‘ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা না করার দায়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘দুদক এখন পর্যন্ত তার (বাচ্চু) বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে। আমাদের মত হলো- বাচ্চু বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও সাফল্যমণ্ডিত হবে।’
বাচ্চুকে কারা বাঁচিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ‘ষড়যন্ত্র কারা করছে সেই প্রশ্নের জবাব দুদক চেয়ারম্যানই দিক।’
উল্লেখ্য, ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের ২ হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ৫৬টি এবং পরের বছর আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা করার পর ৪০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি। মামলায় ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের আসামি করা হলেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই আসামি করা হয়নি।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দুই মেয়াদে ছয় বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাকংটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু।

Leave a Reply

%d bloggers like this: