দুই বছরে নিহত প্রায় অর্ধশত,রোহিঙ্গা শিবিরে আবারও অন্ত্রের মহড়া

সান নিউজ ॥
অস্ত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রোহিঙ্গা শিবিরে- এই শিরোনামে সান নিউজে সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে আাবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটলো। গতরাতে (৩ জানুয়ারি) নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩ জন। গত প্রায় দুই বছরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে শুধু অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই নিহত হয়েছেন অর্ধশত রোহিঙ্গা, আহত হয়েছেন অনেক।
গতরাতের ঘটনায় আহতরা হলেন, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শওকত (১৯),আবুল হোসেন (২২),বশির আহমেদ (৩২), মো. হোসেন (২৩), জুবায়ের (১৮), জিয়াদুল (১২),মো. হাসান, আব্দুল গনি (২৪) ও ফারুক(৮)। বাকিদের নাম এখনও জানা যায়নি।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা জানান, নয়াপাড়া ক্যাম্পের কাপড় ব্যবসায়ী নুর নবী’র কাছে চাঁদা দাবি করে রোহিঙ্গা ডাকাত জকির ও আমান উল্লাহসহ একদল সশস্ত্র বাহিনী। এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ১৩ জন রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের স্থানীয় নয়াপাড়া গণস্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করার পর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সান নিউজে গত ২৪ ও ২৭ জানুয়ারি ক্যাম্পে জঙ্গি গোষ্ঠি দ্বরা রোহিঙ্গাদেরকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ বিষয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন দুটির একটিতে বলা হয়, ‘সংগ্রামী রোহিঙ্গা নেতৃত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুসংগঠিত হচ্ছে মিয়ানমারের আরাকান ভিত্তিক দু’টি সশস্ত্র জংগী গোষ্ঠী। এরা এমন একটি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেটি ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের ‘স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সাহায্য করবে”। রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উপমহাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সে কথাও তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।
অন্য আর এক প্রতিবেদনে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়, “ভারতের গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ভারতে হামলা করতে রোহিঙ্গাদেরকে বাছাই করা হচ্ছে অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য। কাজটি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবিকে দিয়ে, যাতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই”।
সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু দিন পরপরই সশস্ত্র সংঘাত লক্ষ করা যাচ্ছে। তার সবশেষ উদাহরণ সোমবার রাতের এই গোলাগুলির ঘটনা। প্রকাশ্যেই অস্ত্র প্রদর্শন করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। রোহিঙ্গাদের কাছে থাকা অস্ত্র বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গেল বছরের ২৪ আগস্ট টেকনাফের জাদিমুরা এলাকায় হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি ও জাদিমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুককে (২৪) গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাঝেমধ্যেই গ্রেফতার হচ্ছেন তারা।
মাদক চোরচালান, বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসায় রোহিঙ্গাদের একাংশের জড়িত থাকার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। কিছুদিন পরপরই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিব)’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট সংবাদ মাধ্যম ’ডেইলি স্টার’এর তথ্য মতে, দুই বছরে রোহিঙ্গা শিবিরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন ৪৩ জন রোহিঙ্গা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৩২ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের প্রবেশের পর ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও মানবপাচারসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৭১টি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: