প্রেমে রাজি না হওয়ায় প্রেমীকার ঘরে আগুন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দরিদ্র মহর উদ্দিন উরুফে পাতু মিয়ার গোয়ালঘর ও রান্না ঘরে আগুন দিয়ে গরু ছাগল পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গরু ছাগল রক্ষা পেলেও ঘর দুটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এলাকার কতিপয় দুস্কৃতিকারী মেয়ের সাথে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছেন গৃহকর্তী মমতা বেগম। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর জালালপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
মমতা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বাড়ির ভিতর কিছু লোকের পায়ের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। কে কে বলে চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হতেই দেখেন তিনটি লোক বাড়ির দক্ষিণ দিকের রাস্তা দিয়ে দ্রুত সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছে।
ইদানিং এলাকায় গরু চুরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাত কাটে উৎকণ্ঠায়। চোর সন্দেহে শীতের রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে কিছুক্ষণ জেগে থাকেন মমতা।
অল্প কিছুক্ষণ পর আধোঘুমে চোখ বন্ধ হলে হঠাৎ আগুনের ঝলকালি চোখে লাগে। চেয়ে দেখেন গোয়াল ঘরে আগুন জ্বলছে। চাদর মোড়ানো তিনটি লোক দ্রুত দক্ষিণ দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
মমতা বেগমের ডাক চিৎকারে তার স্বামী মহর উদ্দিন উরুফে পাতু মিয়া ঘুম থেকে জেগে গোয়াল ঘর থেকে তার গরু ছাগল গুলি বের করে আনেন। এর মধ্যেই তার গোয়াল ঘর ও রান্নাঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দরিদ্র পাতু মিয়ার নিজের জমি নেই। পরের জমিতে কাজ করেন। তার স্ত্রীও পরের বাড়িতে কাজ করেন। গরুটিও অন্য জনের। বড় করার শর্তে লালন পালন করেন। বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ছাগল ৩টি কিনেছেন। এভাবেই অতিকষ্টে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার চালিয়ে আসছেন।
গৃহকর্ত্রী মমতা বেগম বলেন, বড় মেয়ে গাজীপুরে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুই মেয়ে এক ছেলে বাড়িতে থাকে। দ্বিতীয় মেয়েকে এলাকার কিছু ছেলে বিরক্ত করতো। কয়েকদিন যাবত সে বাড়িতে নেই। এ ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাজাহান মিয়া বলেন, পাতু মিয়া অন্যের জমি চাষ করে খেটে খাওয়া এবং খুবই নিরীহ প্রকৃতির লোক। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম,এ জলিল বলেন, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: