করোনায় ‘কিচেন’ বার্তা দিয়ে ফের আলোচনায় এমপি নদভী

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

জনগণ যখন করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভীতসন্ত্রস্ত, দিনমজুর-খেটে খাওয়া মানুষ যখন অভাবে পীড়ায় পীড়িত, তখনই সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জনগণের এমপি নদভী দিলেন ‘কিচেন’ বার্তা। জানালেন, বাসায় বসে বসে তিনি ইন্ডিয়ান খিচুঁড়ি বানাচ্ছেন! চোখে মুখে হাসি-তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সাতকানিয়া উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউএনওকে হুমকি, মার্চে একটি মাদ্রাসায় আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনে আহ্বায়কের বক্তব্যে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি যেমন তেমন এমপি না। যারা থ্রেট দিচ্ছেন তাদেরকে আমরা চিনি, একটা একটা সাইজ করবো।’ বিতর্কিত এমপি নদভীর এমন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এমনটা জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী নেতৃবৃন্দ।
করোনা ভাইরাসে মহামারির এই সংকটকালে নিজ এলাকায় নেই সাংসদ নদভী। চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সবাইকে রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করার পাশাপাশি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে দোয়া চান এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভ এসে বলেন, ‘প্রিয় এলাকাবাসী, সাতকানিয়া-লোহাগাড়াবাসী আমি আপনাদের প্রিয় এমপি ড. আবু রেজা নদভী বলছি। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। ভালো হলে, ভালো করে আল্লাহ তা’লার ইবাদত করেন, নামাজ দোয়া পড়েন। করোনাভাইরাস থেকে আমাদেরকে সবাইকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’লার কাছে ফরিয়াদ করেন, দোয়া করেন। এবং সরকারের যে নির্দেশনা আছে এগুলো মেনে চলুন। তাহলে আমরা সবাই আল্লাহ তা’লার রহমতে রক্ষা পাবো ইনশাআল্লাহ।’
রান্না করতে করতে তিনি আরও বলেন, ‘আর পাশাপাশি আপনার ঘরে বসে বসে স্টাডি করেন, লেখাপড়া করেন। নামাজ পড়েন ভালো করে। এবং রান্না ঘরে আসেন। রান্না ঘরে এসে রান্না করেন। আমি এখন লক্ষ্মৌর স্টাইলে, লক্ষ্মৌর স্টাইলে আমি এখন খেচুড়ি রান্না করতেছি। সবারই জন্য এবং সবাই আজকে খাবেন।’
এরপর ক্যামেরার আড়াল থেকে একটি নারীকণ্ঠ কিছু একটা শিখিয়ে দেন। এরপর সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার এই সাংসদ বলেন, ‘…এবং পরিবার, ছেলেমেয়েদেরকে সময় দিচ্ছি। সবাইকে সময় দিচ্ছি। রান্না করতেছি লক্ষ্মৌর স্টাইলে। আপনারাও পরিবারকে সময় দেবেন। পরিবারের জন্য একটু ত্যাগ করবেন। যাতে কেউ কষ্ট না পান।’
শুধু এই মহমারি নয়, গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বন্যায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার অন্তত চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় ছিল। কিন্তু সাংসদ নদভীর পা পড়েনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায়। পানি সরে গেলে নামমাত্র ত্রাণ নিয়ে ফটোসেশনের অভিযোগ আছে, আছে ক্ষোভও।
অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী। সুকৌশলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সংসদ সদস্য হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে। জামায়াতের সাথে তার সখ্যতার অভিযোগ ছিলো প্রথমদিকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশ আলোচনায় আসেন এমপি নদভী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তার দূরত্ব চরমে পৌঁছেছে। এমপি নদভীর প্রাথমিক জীবন, কর্মজীবনের সবখানে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিলো। এমনকি তিনি বিয়ে করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাঁশখালী থেকে একাধিকবার জামায়াতের এমপি প্রার্থী মুমিনুল হক চৌধুরীর মেয়েকে। স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীও ছাত্রী সংস্থার সাথে জড়িত ছিল বলে গণমাধ্যমে উঠে আসে। শুরুর থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন এই এমপি।
জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে ইউএনওকে বদলির চেষ্টা, রোহিঙ্গা ত্রাণ নিয়ে নয়ছয়, গাড়িতে ঢিল মারায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলাকে দেহরক্ষী দিয়ে মারধর, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এলাকার কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপরীতে অবস্থান নেয়া, মাহফিলে জনতার জুতা বৃষ্টির মুখে পলায়ন, স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে আওয়ামী মহিলা রাজনীতিতে আনার মত বিতর্কিত কাজ বারবার স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের নিরাশ করেছে। এমনকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করতে গেছেন দুবাই ভ্রমণে। এছাড়াও চট্টগ্রাম-৮ আসনের একটি উপনির্বাচনের একটা ঘরোয়া বৈঠকে ভোট ডাকাতির কথা স্বীকার করে তিনি আওয়ামী লীগের অনেক বড় নেতাকেও তাক লাগিয়ে দেন।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: