এমপি কমলের চাল বিতরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকির সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19


শাহীন মাহমুদ রাসেল::

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে শ্রমজীবী মানুষদের জড়ো করে সদর-রামু আসনের সাংসদ কমল সহায়তা দিলেন ১০ কেজি চাল! অথচ কয়েকদিন আগে তিনি মাইকিংয়ে প্রচার করেছিলেন চলাচলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার— যা ছিল করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা।

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও মানুষকে ঘরে থাকতে যখন সরকার সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তখন একটি আসনের শীর্ষ জনপ্রতিনিধি এমন কাণ্ড অবাক করছে সবাইকে। তার এই কর্মকাণ্ডকে চূড়ান্ত রকমের ‘অসচেতনতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করছেন অনেকেই।

গতকাল ভিড়িও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, সাহায্য করতে গিয়ে কোনও লোকসমাগম করা যাবে না। ওয়ার্ড পর্যায় গিয়ে জনগণকে সচেতন করে দরকার হলে বাড়ির কাছে পাড়া মহল্লায় গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে নির্দেশ দেন। অথচ ১ দিনের মাথায় এসে দায়িত্বশীল পদে থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির এই কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রামু চৌমুহনী ষ্টেশন ও খিজারী হাই স্কুল মাঠে সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ অনুদান দেন। সেখানে উঠানো ছবি বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে প্রকাশ পায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেশি লোক মিলে একজনের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দিচ্ছেন। সাহায্যপ্রার্থী মানুষগুলো পরস্পর ঘেঁষাঘেষি করে এমপির দিকে হাত পেতে আছেন। করোনাভাইরাস নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার সচেতন মানুষ। তাছাড়া কমলের গাঘেঁষে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

নিরাপদ দূরত্ব ছাড়াও প্রশাসন গত কিছুদিন থেকে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করছেন। কিন্তু তাদের কারো মুখে মাস্ক নেই। বার বার হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। এদের কয়জন হাত ধুতে পেরেছেন সেটাও অজানা। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে বিগলিত মনে তাদের হাতে তুলে দেওয়া ১০ কেজি চালসহ বিভিন্ন পণ্যের প্যাকেট।

এমপি নিজের হাতে সহায়তা দেওয়ার দৃশ্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনামুখর হয়েছেন। তারা বলছেন, প্রধান কাজটি করার জন্য তার অনেক জনবল আছে। দ্বিতীয়ত তিনি নিজে এবং আরো যাদের সাথে নিয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজ করেছেন কেউ সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেননি।

জানা গেছে, চৌমুহনী ষ্টশনে বিমর্ষ মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পিকাপ (মিনিট্রাক), বাস, কোস্টার, রামু লাইন, কক্স লাইন, মাইক্রোবাস, ছারপোকা, জীপ, সিএনজি, টমটম, ভ্যান, রিক্সা শ্রমিক ও হোটেল শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমজীবীদের প্রত্যেকের মাঝে ১০ কেজি করে ৫শত ও ২শত টাকার দেড়শত প্যাকেট পণ্য বিতরণ করেন।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সারা দেশে ১০ দিন পরে আরোও ২ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে নাগরিকদের ঘরে থাকার আহবানও জানিয়েছেন সরকার। নাগরিকদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়ে সেনাবাহিনীকেও। জেলা প্রশাসনের সাথে মানুষকে ঘরে রাখার দায়িত্বও পালন করছেন তারা।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: