অদ্ভুত কান্ড ঘটানো করোনা রোগীর পিতার করোনা সনাক্ত, প্রকাশ্যে ঘুরছে এলাকায়


শাহীন মাহমুদ রাসেল:

দেনাদারকে ঝাপটে ধরা সেই অদ্ভুত কান্ড ঘটানো করোনা রোগী জাহানঙ্গীরের পিতার শরীরে এবার করোনা সনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের পিতা আবুল কাছিমের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তার বাড়ি লকডাউন করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশ অমান্য করে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বাহিরে ঘোরাফেরা করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন লোকজন তাকে বাইরে বের হতে নিষেধ করায় তিনি উল্টো তাদের ওপর চড়াও পর্যন্ত হচ্ছেন। তবে, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, নমুনা পরীক্ষার পর গত ৫ই মে তার এবং পরিবারের আরোও তিনজনের রির্পোট পজেটিভ আসে। এরপর তাদেরকে কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার মোক্তারকুল গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন বাসায় হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। পাশাপাশি ওই রাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।

এরপর তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাড়িতে আইসোলেশনে না থেকে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে দোকানের ভাড়া তুলতে যায়। লকডাউনে রোজগার না থাকায় ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে অপারগতা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটিয়াকে করোনা রোগী বানাতে আকস্মিক জড়িয়ে ধরে অদ্ভুদ কান্ড ঘটিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। দুদিন আগে এ ঘটনাটি ‘টক অব দ্যা ডিস্ট্রিকে’ পরিণত হয়েছিলো। পরে প্রশাসন তাকে ধরে আইশোলেসনে পাঠিছে।

কিন্তু এবার এলাকাবাসী জানান, ছেলে জাহানঙ্গীরের পর তার পিতা আবুল কাছিমের লকডাউনের নির্দেশ না মেনে গতকাল শুক্রবার থেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বাংলাবাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আর্থিক লেনদেনসহ অনেকের সঙ্গেই দেখা করেন।

স্থানীয়রা আরোও জানান, আব্দুর রহমান করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে বাংলা বাজারের মার্কেটে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। এ সময় তিনি ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসয়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, করোনা আক্তান্ত হওয়ায় আব্দুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করলে তিনি তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। রহমানের দাবি তিনি করোনা আক্রান্ত নন। তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়েছে।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, তিনি প্রতিদিন ওই এলাকায় তাদের বিভিন্ন দোকানে নিয়মিত বসেন। সাধারণ মানুষের সাথে আড্ডা দেন। এসব কারণে ওই এলাকার মানুষ এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, করোনা আক্রন্ত হওয়ার পরও তিনি ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করেছেন। এখন তারাও যদি করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে এর দায় রহমানকেই নিতে হবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এখন তিনি যদি লক ডাউনের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: