ওয়েব সিরিজ, নাটক-মুভিতে অশ্লীলতা ধ্বংসের প্রান্তে সমাজ

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

এত কিছু ত বলে লাভ নাই ভাই- যখন থেকে এই দেশে বিদেশী অপসংস্কৃতি প্রভাব বিস্তার করেছে, আমাদের ওপর ভর করেছে তখন থেকেই তার একটা বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের সমাজে, বিশেষ করে যুবক সমাজের ওপর পড়েছে- যা আমরা সবাই জানি ও বুঝি। অবশ্য এসব আমরা যারা প্রশ্রয় দেই তাদেরই দোষ বেশি, তারপর সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
রাজ্জাক-শাবানা, সালমান শাহ-শাবনূর, আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ূন ফরিদী, হুমায়ুন আহমেদের মত কিংবদন্তীরা এবং সেই সময়ের সবকিছু আমাদের আজও নস্টালজিক করে তুলে এবং যার স্থান আজও আমাদের কাছে সবার ওপরে। কারণ, সেসব দিনে অশ্লীলতা, বিদেশী অপসংস্কৃতি ছিল না এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত অভিনয় এবং কাহিনী ছিল৷ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল।
যখন থেকেই আমাদের সংস্কৃতিতে বিদেশী অপসংস্কৃতি আর অশ্লীলতা ভর করেছিল তখন থেকেই রুচিশীল দর্শকেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, যার ফলে বিরাট এক ধ্বস নেমেছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, সমাজে। কারণ, রুচিশীল দর্শকেরাই সংস্কৃতির প্রাণপাখি৷ সেই সংস্কৃতি যখন আবার আস্তে-আস্তে ভালোর পথে যাচ্ছে তখন আবারও রুচিশীল দর্শকেরা আস্থা প্রকাশ করছে৷ এমতাবস্থায়, সেই অপসংস্কৃতি যখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে তখন কি হতে পারে এসব শিল্পের তা সহজে অনুমেয়।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অবশ্যই চলতে হবে৷ তা না হলে জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে যাব কিন্তু তা নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে নয়। তা না হলে আমও যাবে, ছালাও যাবে।
অন্যান্য প্রায় দেশে তাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়েই সবক্ষেত্রে কাজ করা হয়ে থাকে, অনেকক্ষেত্রে বাধ্য করা হয়ে থাকে। তাই, তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে তারা জাতি হিসেবেও বিশ্বের বুকে এগিয়ে থাকে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের এই বীরের জাতির এত-এত গর্ব করার মত সংস্কৃতি থাকা সত্বেও তার প্রপার ইউজ আমরা করিনা এবং করতে চাই না! এই লজ্জা আমরা রাখি কোথায়?! শেইম শেইম শেইম।
অনেকে বলছে- ওয়েব সিরিজ বয়স ভিত্তিক বিবেচনায় হয়ে থাকে, তাই এভাবেই সকলের পজিটিভলি নেওয়া উচিত এবং এভাবেই সরকারের এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত, আইনপ্রণয়ন করা উচিত।
তাহলে ত সরকারের অনেক ইউরোপ কান্ট্রির মত প্রকাশ্যে কিস্ করা, হস্তমৈথুন করা, সমকামিতা, অশ্লীলতা এদেশে বৈধ করে দিতে হবে- নাউজুবিল্লাহ্।
তাহলে, যার যার বয়স অনুযায়ী তারা তারা তা উপভোগ করবে৷ তারপর দেশটা চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের পর্যায়ে চলে যেতে বাধ্য হবে- জাস্ট মাইন্ড ইট। যেখানে আজকাল একটা ক্লাস ফোর-ফাইভের ছেলেমেয়েরাও অনেক ইঁচড়েপাকা। তারওপর- তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা৷ সবকিছু মিলিয়ে প্রাণের এই দেশটাকে জগাখিচুড়ি বানাতে ব্যস্ত কিছু কুলাঙ্গার, নব্য-পুরাতন রাজাকারেরা এবং তাদের বংশধরেরা।
সত্য, তেঁতো হলেও এটাই মেনে নিয়ে এগুতে হবে।
আমাদের নাটক যে আমরা বিশ্বমানের বলে থাকি , পৃথিবীর অনেক দেশেই যা দেখে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করে তার কারণ, নাটকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত কাহিনী, অভিনয় এবং সামাজিকতা – জাস্ট মাইন্ড ইট।
যত যুক্তিই দেখান না কেন, অপসংস্কৃতি কখনোই সমাজের জন্য, দেশের জন্য ভাল ফল বয়ে আনেনা- কথাটা ভালভাবে মাথায় ঢুকিয়ে রাখুন। যার খেসারত প্রাণের এই দেশটাকে অনেক সময় দিতে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর এই দেশে বিদেশী অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা আমরা কিছুতেই সহ্য করব না৷ দরকার পড়লে আরেকটা যুদ্ধ হবে এসবের বিরুদ্ধে।
বর্তমান যোগ্য, বাঙালীর হৃদয়ের এই আওয়ামীলীগ সরকারের কঠোর, হস্তক্ষেপ কামনা করছি এসব ব্যাপারে এবং সব ব্যাপারে- যেন এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের কোন ক্ষতি যেন না হয়।
দয়াকরে, আমাদের এই প্রাণের দাবীকে বাস্তবায়িত করুন।
কথার শেষে ভুল হয়ে থাকলে মাফ করে দিন কথাটা লিখলাম না আজ। কারণ, আমি আজকের লিখায় ভুল কিছু বলিনি।
চলুন, সবাই হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে~~~
আলো আসবেই ইনশাআল্লাহ।

লেখক-মোহাম্মদ আবিদুর হাসনাত জামি
ছাত্রলীগ কর্মী
কক্সবাজার জেলা।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: