চবির শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নথিভুক্ত

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

আন্তর্জাতিক জার্নালে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে।
আদালতে মামলার আরজি জমা দেয়ার দুই বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ায় গত বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় মামলটি রেকর্ড করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গত বৃহস্পতিবার মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। এখন এটি নিয়মিত মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন তদন্ত শেষে আমরা সরাসরি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।
দু’বছর আগে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৭ই মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তানভীর বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দায়ের করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ যুক্ত থাকায় আদালত মামলার আরজি গ্রহণ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি নিয়ে এই মামলার এজাহার গ্রহণের জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল আনোয়ার হোসেন বিভাগীয় সভাপতি বরাবরে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য করা আবেদনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল জার্নাল অব হিউম্যান সোশ্যাল সাইয়েন্স: সোসিওলজি এন্ড কালচার নামে এক জার্নালে ‘রিলিজিয়াস পলিটিক্স অ্যান্ড কমিউনাল হারমনি ইন বাংলাদেশ: এ রিসেন্ট ইমপাস’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ সংযুক্ত করেন। তার প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ বিষয় নিয়ে দৈনিক ভোরের কাগজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
আনোয়ার হোসেনের ওই প্রবন্ধের উপর করা একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দায়ের করা মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রবন্ধে তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করলেও জাতির জনক শব্দটি একবারও ব্যবহার করেননি বরং বিভিন্ন জায়গায় নামের বানান ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন। এত করে তার ধৃষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সৌদিআরব গমন, জায়নামাজ বহন ও হিজাব পরিধান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নন্দীরহাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ও উপাসনালয়ে হামলা, রামু বৌদ্ধবিহারে সহিংসতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক এই সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে সাময়িক বহিষ্কারও করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে আদালতের নির্দেশে কারামুক্তি পেয়ে আবারও শিক্ষকতায় ফিরেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: