ডিসি কলেজের সামনে কোচিং সেন্টারের অন্তরালে অভিনব কায়দায় ইয়াবা বিক্রি 

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

নৈপথ্যে মুসা-লায়লা যুগল

নিজস্ব প্রতিবেদক:: কক্সবাজার শহরের ডিসি কলেজের সামনে কোচিং সেন্টারের অন্তরালে অভিনব কায়দায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইব্রাহীম মো: মুসা (৩৩) পিতা- ছৈয়দ করিম ও তার স্ত্রী বার্মাইয়া লায়লার বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শহরের বইল্ল্যাপাড়া এলাকায় কক্সবাজার ডিসি কলেজের সামনে নিজ বসতবাড়িতে অভিনব কায়দায় দীর্ঘ ১১ বৎসর যাবৎ সুকৌশলে প্রশাসনের চোখে ধুলো ছিটিয়ে ইয়াবা বিক্রি করে আসছেন এই মাদক যুগল। মুসার রয়েছে মাদকের মামলাসহ একাধিক মামলা। অপরদিকে তার স্ত্রী লাইলার কোন মামলা না থাকলেও সে স্বভাবগতভাবে মাদক কারবারী। মুসা যখন ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে জেলে থাকেন, তখন লাইলা এই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের মতে, মুসার বাসা সড়কের সাথে লাগোয়া হওয়ায় এবং ২৪ ঘন্টা ঘরের প্রধান ফটক (কলোপসোবল গ্রীল) তালাবদ্ধ থাকায় সবাই মনে করে এই বাসায় কেউ থাকেনা। করোনা মহামারির আগে বাড়িটির সামনের রুম ভাড়া নিয়ে ৩ বৎসর যাবৎ কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন বায়তুশ শরফ জাব্বারিয়া একাডেমীর শিক্ষক আলাউদ্দিন। যা বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে বন্ধ আছে। যা দরুণ অনেকেই মনে করেন এটি কোচিং সেন্টার। বাড়ির সামনে থাকা ছোটো জানালার ভিতর দিয়েই প্রতিনিয়ত চলে ইয়াবা লেনদেন। স্থানীয় এক মুরব্বী বলেন, বাড়িটি সামনে থেকে দেখতে পুরাতন ও ভঙ্গুর হলেও ভিতরে ঢুকলে এটি রাজপ্রাসাদ’ই মনে হবে। প্রতি রুমে রয়েছে এসি, এলইডি টিভি, ফ্রিজ ও অত্যাধুনিক তৈজসপত্র। ব্যবহার করেন নিত্যনতুন ব্র্যান্ড নিউ মোটরসাইকেল। বাড়ির শেষপ্রান্তে বাথরুমের ছাদ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি রাখা আছে অত্যাধুনিক দরজা। যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য নয়। বর্তমান সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোঘনা করেছে, সেখানে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মুসা-লায়লা দম্পত্তি। একটুর জন্যও থেমে নেই এ মাদক কারবারী, থেমে নেই তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক ও অসামাজিক ঘৃণিত ও নিন্দনীয় কার্যকলাপ। কিছুদিন আগেও মুসা মনু নামের একজন যুবককে চুরিকাঘাত করে জখম করে। যা পরে স্থানীয়রা মীমাংসা করে দেয়। তাছাড়া কারো সাথে বিবাদে জড়ালে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বের হয় বলে শোনা যায় এ মমাদককারবারী। এ অবস্থায় শক্তিশালী এ মাদক কারবারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং অত্র এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করতে স্থানীয় অসহায় নিরীহ লোকজন জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা আক্ষেপ করে জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহের জন্য শহরের বিভিন্র ওয়ার্ড থেকে মোটরসাইকেলযোগে ও অন্যান্য উপায়ে উঠতি বয়সের তরুণেরা ও যুবকেরা বইল্ল্যাপাড়া মোড়ে এসে ভিড় জমাই। এসব কিশোর ও যুবকদের আনাগোনা মধ্যরাত্রী পর্যন্ত চলে। যার দরুণ সন্ধ্যার পর জনসাধারণের চলাচলে দূর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং জনমনে ভীতি ও আতংক বিরাজ করে। প্রশাসন দেখেও যেন দেখে না। আমাদের যুবসমাজ রসাতলে গেলে কার কি আসে যায়। এ ছাড়া পুলিশের গা-ছাড়া ভাব ও মাদক ব্যবসা নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করায় এই মাদক ব্যবসা প্রসারের অন্যতম প্রধান কারণ। স্থানীয় এক মুরব্বী বলেন, ‘এলাকার উঠতি বয়সের তরুণেরা দিন দিন মাদকাসক্ত হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন অভিভাবকরা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাজাহান কবির এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সমুদ্রকন্ঠকে বলেন, মাদককারবারী এবং মাদক বহনকারী ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করছি। মাদককারবারী যেই হোক তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য তিনি সমুদ্রকন্ঠকে ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: