প্রাথমিক শিক্ষার গতি ফেরাতে সরকারের নতুন ৮ সিদ্ধান্ত

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ‘হ্যালো টিচার’ নামে নতুন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপস) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই অ্যাপস ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষক বাছাই করে তার কাছ থেকে শিক্ষার বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবে। গণিত, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞানসহ নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক বাছাই করে পাঠ সম্পর্কে বুঝতে ও জানতে পারবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে পাঠ প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার পর মোবাইল অ্যাপস তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়। এই অ্যাপস তৈরিসহ করোনাকালে প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন আটটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজও শুরু করে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গুগল প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবে। অভিভাবকরাও এই অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার করে ৫৯ থেকে ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পাঠ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। বেতারে পাঠ প্রচার শুরু হলে আরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো যাবে। তবে জরিপ করে দেখা গেছে, দেশের ৯৮ শতাংশের বেশি মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করে। অভিভাবকদের মুঠোফোন ব্যবহার করে শিশুরা অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প থেকে এই অ্যাপস তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে সহায়তা করা হচ্ছে। শিগগিরই অ্যাপস চালু করা যাবে বলে তিনি আশা করেন।
হ্যালো টিচার অ্যাপস ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্নিষ্ট নতুন সাতটি পদক্ষেপ সরকার থেকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো-
এখন থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সাইনবোর্ডে বাংলায় বিদ্যালয়ের নাম লিখতে হবে। বিদ্যালয়ের নামের আগে ‘…..নং’ কথাটি ব্যবহার করা যাবে না। এ বিষয়ে গত সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সংশ্নিষ্ট সবাইকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দেন। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, একেক স্থানে একেক রকমভাবে বিদ্যালয়ের নাম লেখায় তা দৃষ্টিকটূ এবং শিশুদের জন্য তা বোঝাও কঠিন।
গত ২৩ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন ও ডিপিই মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও), পিটিআই সুপার, ইউইও, এইউইও, ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি এবং শিক্ষকদের সাঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় মিলিত হন। এতেও প্রাথমিক শিক্ষার নতুন এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে সবাইকে আগাম অবহিত করা হয় এবং এগুলো বাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে করোনাকালে মোবাইল ফোনের জুম অ্যাপস ব্যবহার করে সব প্রধান শিক্ষক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সাঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করবেন। টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ কার্যক্রমে আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী যেন যুক্ত হয় ও টেলিভিশনে ডিজিটাল ক্লাস যেন দেখে এ ব্যবস্থা ফোনের মাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ করে করবেন। পাঠ প্রচারের সময়সূচি স্থানীয় মসজিদের মাইকের মাধ্যমে অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের জানিয়ে দিতে হবে।
করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র তৈরি করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে অথবা মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করবেন এবং তা যাচাই করবেন। এ কাজটি সফলভাবে সম্পাদনের জন্যে ইউইও এবং এইউইওরা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বাস্তবায়ন করবেন।
নতুন সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে ঈদুল আজহার আগেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ‘কিডস অ্যালাউন্স’ দেওয়া হবে। বিধি অনুযায়ী উপজেলাভিত্তিক সঠিক মানের একই রংয়ের শার্ট, স্কাট, প্যান্ট, টাই, জুতা কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ‘রিকভারি অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠাবেন।
এ ছাড়া প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিজ বিদ্যালয়ের নামে ফেসবুক আইডি খুলতে হবে। শিক্ষকরা পাঠদান কার্যক্রম ভিডিও করে ওই ফেসবুকে আপলোড দেবেন। এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ‘বাস্তবায়নে এলজিইডি’ না লিখে এর জায়গায় ‘বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ লিখতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব ধরনের মেরামত ও স্লিপের কার্যাবলি মানসম্মতভাবে যথাসময়ে শেষ করে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিল ভাউচার দাখিল করতে হবে প্রধান শিক্ষকের।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: