রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও বড় বাধা ছিল “রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার মেম্বার

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

জসিম উদ্দীন,সমুদ্রকন্ঠ::

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ শরনার্থী শিবিরের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক রোহিঙ্গা রাজা
মৌলভী বখতিয়ার আহাম্মদ প্রকাশ বখতিয়ার মেম্বার পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের পর জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সহজ সমাধান দেখছে স্থানীয়রা।রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত অনেক এনজিও কর্মীও স্থানীয়দের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
যদিও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি আমলেই নিতে নারাজ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার।

রোহিঙ্গা রাজার ছেলে হেলাল

স্থানীয়রা বলছে, শরনার্থী শিবিরের সব ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপ ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ছিল বখতিয়ার মেম্বার। তাদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, গুম, খুন,অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতো বখতিয়ার।কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন বখতিয়ারের ছেলে সাবেক এমপি আবদু রহমান বদির প্রেস সচিব হেলাল উদ্দীন।

সাবেক এমপি বদির সাথে রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার

স্থানীয়দের দাবি,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী এনজিও গুলো বখতিয়ার বাহিনীকে ব্যবহার করে প্রত্যাবাসন ঠেকিয়েছে। তারা জানান,যখনি প্রত্যাবাসনের জোরালো আলোচনা চলতো তখনি বখতিয়ার গংদের ইশারায় শত শত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী প্রচার চালাতো। পাশাপাশি মিয়ানমার নিরাপদ নয় জানিয়ে কেউ সেখানে যেতে রাজি হলে তাকে হুমকি দিত।

সর্বশেষ যেসব রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে যেতে রাজি হয়েছিল তারা ওই সময় বখতিয়ার মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকিতে পিছু হটেছিল বলে দাবি করেছে একটি সূত্র।


স্থানীয় আহমদে গিয়াস জানান,এক সময়ের টং এর চায়ের দোকানদার মৌলভী বখতিয়ারের এখন হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক।সবই করেছেন লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে। জানাগেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি জমি দখল করে ৫শতাধিক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিলো সে ।এক হাজারের অধিক দোকান থেকে মাসিক চাঁদা,লম্বাশিয়া নামক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চেকপোস্ট বসিয়ে মালবাহী পরিবহণ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তুলে বখতিয়ার গংরা।

এ ছাড়াও মোবাইলসহ প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য বখতিয়ার বাহিনীকে আলাদা ভ্যাট দিতে হয় বলে জানিয়েছে সেখানকার ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সালাউদ্দীন,নুরুল বশরসহ কয়েকজন জানান, বখতিয়ারের ছেলে হেলাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেফতার,সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ যোগান বন্ধে তাদের অবৈধ চারশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলে রোহিঙ্গা জনপদ থেকে সন্ত্রাসবাদ চিরতরে বিদায় নেবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ পেলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি করানো অনেকটা সহজ হবে।

উখিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন,বখতিয়ার মেম্বারের হুকুমের বাইরে যাবার ক্ষমতা রোহিঙ্গা বা স্থানীয় কারোই ছিলনা।তিনি বলেন,বখতিয়ার মেম্বার ছিল রাজা।সবই সবার জানা ছিল। কিন্তু তার কাছ থেকে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে তার পক্ষে কথা বলেছে সবাই।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ারের টাকা ও ক্ষমতার দাপটে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআর পর্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছিল।
রোহিঙ্গা এক নারীকে ধর্ষণ করেছিল বখতিয়ার মেম্বার। পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হলে কারাবাস হয় তার। মামলাটি পরিচালনা করেছিল UNHCR। কিন্তু সাবেক একজন সাংসদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা থেকে মুক্তি পান রোহিঙ্গা রাজা।

সাবেক এমপি বদির সাথে রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার

সাবেক দাপুটে এমপি আবদুর রহমান বদির খুব আস্থাভাজন ছিলেন বখতিয়ার। বদির ভোট ব্যাংক হিসেবেও রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ারের পরিচিত ছিল।তার ছেলে হেলাল উদ্দীন আবদুর রহমান বদির প্রেস সচিব।প্রবল ক্ষমতার কারণে বখতিয়ার মেম্বারকে অনেকেই দ্বিতীয় বদি হিসেবে চিনেন।

এদিকে গত ২৩ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বখতিয়ার মেম্বার নিহত হবার পর আস্তে আস্তে মুখ খুলতে শুরু করেছে অনেকেই।রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোকে বখতিয়ার গংদের সঙ্গে বোঝাপড়া করে ক্যাম্পে কাজ করতে হয় বলে জানিয়েছে এনজিও কর্মীদের অনেকেই।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান,এতোদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কার্যক্রমের আলোচিত বখতিয়ার মেম্বার গত কয়েক বছর ধরে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন ।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান- ইয়াবার চেয়েও ভয়ংকর হচ্ছে রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রিক দেশের জন্য হুমকি এমন কার্যকলাপ এর সঙ্গে বখতিয়ার জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। যা জিজ্ঞাসাবাদে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্হার সদস্যদের কাছে মৌলভী বখতিয়ার নিজেই স্বীকার করেছে অকপটে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রদীপ জানান, বখতিয়ার মেম্বার আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে বলেছেন,তিনি কাউকে ভয় পান না। টাকা দিয়ে সবাইকে কিনতেন। প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিকসহ অনেককে ১থেকে ৫লাখ টাকা পর্যন্ত মাসোয়ারা দিতেন রোহিঙ্গা রাজা। সে হিসেবও আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কাছে দিয়েগেছেন রোহিঙ্গা রাজা।

কক্সবাজার র‍্যাব ১৫ এর উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ ও কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন জানান, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক যতই ক্ষমতাশালী হউক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সেভাবে এগুচ্ছে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী।দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান,রোহিঙ্গা রাজা বখতিয়ার মেম্বার ও সাইফুল করিম যখন রেহাই পাইনি বাকিরাও পার পাবেনা।

প্রসঙ্গত:ইউনুস নামের একজন ইয়াবা কারবারির দেয়া তথ্যে কুতুপালং থেকে বখতিয়ার মেম্বার ও কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মো. তাহের নামের একজনকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে আরও ইয়াবা উদ্ধার গেলে বন্দুকযুদ্ধে বখতিয়ার মেম্বার ও তাহের নিহত হন। ঘটনা স্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা অস্ত্র ও নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Stay Home. Stay Safe. Save Lives.
#COVID19

%d bloggers like this: