অবশেষ জামিনে মুক্তি পেলেন কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা

টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপের পালিত দালাল মৌলভী মুফিজ ও জহিরের গায়েবি চাঁদাবাজির মামলা অবশেষ জামিনে মুক্তি পেলেন কক্সবাজারের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন। এ সময় স্ত্রী হাসিনা আকতার, বোন ফাতেমা আকতার বেবি, সালমা আকতার, মেয়ে সোমাইয়া মোস্তফা, ছেলে শাহেদ মোস্তফা, সাজেদুল মোস্তফাসহ স্বজনেরা ফরিদকে বরণ করে নেন।
ফরিদুল মোস্তফা খানের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন। এরআগে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার জামিনের খবরটি এলাকায় জানাজানি হলে তার আত্মীয় প্রতিবেশীসহ অসংখ্য লোক কারগারারের সামনে এসে তাকে দেখার জন্য অবস্থান করেন।
জানা যায়, আজ দুপুরে টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত জিআর মামলাটি শুনানি শেষে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত ফরিদকে জামিন দেন যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান।
মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন কক্সবাজার জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ছিদ্দিকী, সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা। মামলাটির বাদি ছিলেন টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আবুুুল কালাম আজাদ।
ঢাকার বাসা থেকে ধরে এনে সাজানো অস্ত্র, বিদেশি মদ ও ইয়াবার মামলা থেকে বুধবার (২৬ আগস্ট) জামিন দেন কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল।
মেজর (অবঃ) সিনহার হত্যা মামলার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সর্বশেষ তিনটি মামলার তাকে আসামি বানিয়েছিলেন।
ফরিদুল মোস্তফা খানের পক্ষে নিযুক্ত প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল অবৈধ দুইটি অস্ত্র ও ৫ রাউন্ড গুলি এবং ৪ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার বলে পুলিশের সাজানো মামলা দুইটি শুনানী শেষে বুধবার জামিন দেন বিজ্ঞ বিচারক।
এই মামলা দুইটি ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টের ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়ের করেছিল পুলিশ। এর আগে গত ১ মার্চ বিদেশি মদ উদ্ধার মামলায় জামিন প্রদান করেন একই আদালত।
তিনি আরও জানান, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপের দালাল মৌলভী মুফিজ ও জহিরের গায়েবি চাঁদাবাজির মামলা গত ১৩ আগস্ট জামিন প্রদান করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রাজজ মোহাম্মদ ইসমাইল।
এছাড়া ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বও টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-৪২/২০১৯ (জি.আর ৭৭৮/২০১৯) থেকে ১৯ আগস্ট জামিন প্রদান করেন টেকনাফের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ।
এ নিয়ে ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৬টি মামলারই জামিন হলো। আশা করা হচ্ছে, ১১ মাসের কারাবাস থেকে সাংবাদিক ফরিদ আজকেই কারামুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন স্বাভাবিক জীবনে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাড়িতে তাকে নিয়ে গিয়ে কথিত অভিযান চালানো হয়। ওই সময় গুলিসহ ২টি অস্ত্র, ৪ হাজার ইয়াবা ও বিপুল পরিমান বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার হয় বলে পুলিশ দাবি করে। যদিওবা পরিবারের দাবি, এসব নাটক। সম্পূর্ণ সাজানো।

Leave a Reply

%d bloggers like this: