এক মাসেও প্রদীপের সাক্ষাৎ পায়নি মন্ত্রণালয়ের কমিটি

কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ দ্বিতীয় দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১ আগস্ট করা হলেও এবারও প্রতিবেদন জমা দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার এক মাস হলেও টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমাদের কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুধুমাত্র আসামি প্রদীপের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাচ্ছে না।
মিজানুর রহমান বলেন, চলতি আগস্ট মাসের শেষের দিকে (২৯ ও ৩০ আগস্ট) যেকোনো এক দিন প্রদীপের সাক্ষাৎ পেতে আদালতে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু র‌্যাব তৃতীয় দফায় চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে যায়। এ রিমান্ড শেষ হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। যে কারণে তার (প্রদীপের) সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে না।
এ অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে র‌্যাব সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে গত শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তৃতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তৃতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক ও সিনহা হত্যার প্রধান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে রোববার (৩০ আগস্ট) কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়।
এর আগে একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার অপর তিন আসামী এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহাজাহান, কনস্টেবল সজীব ও আবদুল্লাহ। এদের মধ্যে ২৬ আগস্ট শাহাজাহান এবং ২৭ আগস্ট সজীব ও আবদুল্লাহ জবানবন্দি দেন।

গত ১৭ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের একটি দল এপিবিএনের তিন সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহাজাহান, কনস্টেবল সজীব ও আবদুল্লাহকে হেফাজতে নেয়। ১৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১২টায় এই তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর সাতদিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরও সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চারদিনের রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চারদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে গত ২৮ আগস্ট আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় হয় টেকনাফ থানায়। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলার আসামি করা হয় সিফাতকে। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় আসামি করা হয় শিপ্রা দেবনাথকে।
৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন বাদী হয়ে একই আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরের দিন বিকেলে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। একই আদালত র‌্যাবের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতকে সাত দিনের রিমান্ড এবং অপর চার আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও এসআই লিটনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। অপর দুই আসামি এসআই টুটুল ও মো. মোস্তফা আদালতে হাজির হননি। পুলিশের দাবি, এই নামে জেলা পুলিশে কেউ নেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: