ওসি প্রদীপসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে আরও একটি হত্যার অভিযোগ

৫ লাখ টাকা আদায় করে দাকিকৃত আরো ৫ লাখ টাকা না দেওয়ায়- আবদুল জলিল নামের এক সিএনজি অটোরিক্সা চালককে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগ এনে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে টেকনাফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ আদালতে নিহতের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন।। শুনানি শেষে এজাহারটি রুজু না করে ওই ঘটনায় অন্য কোনো হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে কিনা- তা জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাদির স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গেল বছরের ৩ ডিসেম্বর পারিবারিক কাজে কক্সবাজারে অবস্থানকালে আল ফুয়াদ হাসপাতালের সামনে থেকে তার স্বামী আবদুল জলিল ও তার সাথে থাকা রফিক উল্লাহ নামে একজনকে জেলা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা মানস বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকধারী ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ধরে নিয়ে যাওয়ার ১২ দিন পর একটি জিআর মামলা করে রফিক উল্লাহকে আদালতে পাঠানো হলেও আবদুল জলিলকে ছাড়া হয়নি। কিন্তু আটকের তিন মাস পর্যন্ত আবদুল জলিলের কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। এর মধ্যে গত ৩ মার্চ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাকে ক্রসফায়ারে না দেয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ১৬ মার্চ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন আসামিরা। আটকের কথা স্বীকার করলেও ৫ লাখ টাকা নেয়ার দুই তিন মাসও জলিলকে আদালতে পাঠায়নি পুলিশ। এর মধ্যে গত ১০ জুলাই জলিলকে টেকনাফ থানা হেফাজতে রয়েছে জানতে পারে পরিবার।
তারপরও বহুবার তদবির করেও আবদুল জলিলকে আদালতে তোলা হয়নি। এর মধ্যে গত ৭ জুলাই রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া বড় ছড়া এলাকায় এনে সিএনজি চালক আবদুল জলিলকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় বলে বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
মামলায় টেকনাফ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানকে প্রধান আসামি এবং বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ করা হয়। ১২ আসামীদের মধ্যে ১১ জন পুলিশ সদস্য এবং অন্যজন স্থানীয় দফাদার নুরুল আমিন।
অন্যান্য আসামিরা হলেন- এএসআই আরিফুর রহমান, এসআই সুজিত চন্দ্র দে, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, এসআই অরুণ কুমার চাকমা, এসআই নাজিম উদ্দিন, এসআই মোঃ নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এএসআই রাম চন্দ্র দাশ, কনস্টেবল সাগর দেব, কনস্টেবল রুবেলে শর্মা, হোয়াক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার, কাঞ্জর পাড়ার মৌলভী সিরাজুল ইসলাম এর পুত্র মো. আমিনুল হক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: