ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ডা. জাফরুল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

চট্টগ্রামের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তবে এ ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানহানির অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১৯ আগস্ট, বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালত এই আদেশ দেন।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, ‘সম্প্রতি এক সমাবেশে দেয়া একটি বক্তব্যের জেরে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাতে’র অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধারাটি খারিজ করেছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানহানির অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেন।
আরজিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয়গ্রন্থ সম্পর্কে জনসম্মুখে দেয়া এমন বক্তব্য মনগড়া, আপত্তিকর, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ও বেআইনি। এতে সনাতনী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ নিজেকে ‘সনাতন ধর্মের অনুসারী’ উল্লেখ করেন। তাই তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক) ধারায় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানহানির অভিযোগে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় ডা. জাফরুল্লাহ’র বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের আরজি জানান।
প্রসঙ্গত, ৯ আগস্ট ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে যোগ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ওই মানববন্ধনে বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ মহাভারত ও রামায়ণ দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্পকাহিনি রয়েছে।’ যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: