নদীর তলদেশ ফুঁড়ে বেরিয়েছে টানেল, পতেঙ্গা প্রান্তের কাজ নভেম্বরে

পাশাপাশি দুটি সুড়ঙ্গের একটি সম্পন্ন। এখন দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ নির্মাণ শুরুর প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ ছুঁয়ে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল অপরপ্রান্তে বেরিয়ে গেছে। এ মাইলফলক অগ্রগতি হয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণযজ্ঞে।
এ সুড়ঙ্গ করতে যে টানেল বোরিং মেশিন কাজ করেছে তার যন্ত্রাংশ এখন খুলে আবার পতেঙ্গা প্রান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। নভেম্বর ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ নির্মাণকাজ এমনটিই জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী।
সা তিনি বলেন, ‘এখন শুধু দুটি সুড়ঙ্গের একটি সুড়ঙ্গ তৈরি হলো। সড়ক নির্মাণসহ অনেক কাজ বাকি। পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে আবার নতুন করে বোরিং কাজ শুরু হবে।’
পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর ওপর জাহাজ চলাচলের ব্যস্ততা আর উত্তাল ঢেউ দেখে বোঝার উপায় নেই তার তলদেশে ফোঁড় করে চলে গেছে এক কিলোমিটারের বেশি লম্বা বাংলাদেশের একটি সড়ক পথ।
নেভাল একাডেমি পাশ থেকে টানেলের প্রবেশপথ। প্রথমে মাটির নিচে যেতে যেতে নদীর তলদেশ ভেদ করে অপরপ্রান্ত আনোয়ারের দিকে বের হয়ে গেছে। প্রায় ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সুড়ঙ্গ কাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ জানান, টানেল বোরিং মেশিন দিনে নদীর তলদেশে ২ থেকে ৩ মিটার করে খুঁড়ে এগিয়ে গিয়েছে। একইভাবে অপর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে খুঁড়ে এগিয়ে যাবে।
এর আগে, প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, টিভিএম খনন করে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি পেছনের দিক দিয়ে সেগমেন্ট ঢুকে সুড়ঙ্গে পাকা দেয়াল হয়ে যাচ্ছে। টিভিএম মেশিনের পেছন থেকে কংক্রিটের সেগমেন্টগুলো একটি রেল ট্রাক দিয়ে ঢুকছে। তারপর আটটি ভাগে ভাগ হয়ে রিং আকারে একটির সঙ্গে অন্যটি লেগে দেয়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ৮টি সেগমেন্টে দুই মিটারের একটি রিং তৈরি হয়। খনন আর পাকা দেয়াল নির্মাণ সবই হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
বঙ্গবন্ধুর টানেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (সিসিসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পুরো টানেল নির্মাণে ১৯ হাজার ৪ শত ৮৮ টি সেগমেন্ট লাগবে। চীনের কারখানায় দিনে ৩২টি সেগমেন্ট তৈরি হচ্ছে।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর তলদেশে দুটি টানেল টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেকটি টিউব দিয়ে ওপার থেকে শহরের দিকে আসবে। টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যে কোনো বড় যানবাহন দ্রুত স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে এই টানেল দিয়ে।
বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প শেষে ২০২২ টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচল করবে। এক সময় এই পরিমাণ এক কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস, আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট গাড়ি।
-সারাবাংলা

Leave a Reply

%d bloggers like this: