রশিতে বেঁধে মা ও মেয়েকে নির্যাতন: ৩ নারীর জামিন

গত শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁদের কয়েকটি গ্রাম ঘুরিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় মা-মেয়েকে মারধর করেন।

গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিন নারীর জামিন হয়েছে। সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব এই জামিন দেন। অন্য দুজনের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় পুরো ঘটনাটি আদালতের নজরে এনে আসামিদের জামিন প্রার্থনা করা হয়। এ সময় বিচারক রাজিব কুমার দেব আসামিদের মধ্যে দুই নারীকে আদালতে উপস্থিত করতে নির্দেশ দেন। সোমবার সকালে পুলিশ পারভীন আকতার ও সেলিনা আকতারকে আদালতে উপস্থিত করলে তাঁদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। একপর্যায়ে আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে তিন নারীর জামিন মঞ্জুর করেন।

গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও তিনজন। পরে তাঁদের কয়েকটি গ্রাম ঘুরিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় মা-মেয়েকে মারধর করেন। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে চেয়ারম্যান পুলিশ ডেকে তাঁদের হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।

ওই রাতেই গরু চুরির অভিযোগে তিন নারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা করেন মাহবুবুল হক নামের এক ব্যক্তি। পরের দিন শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। নারীদের রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি তদন্ত করতে রোববার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: