রামু থানায় জব্দকৃত ক্যামেরা-ল্যাপটপে সিনহা হত্যার রহস্য!

জসিম উদ্দীন::

পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান ও তার সহকর্মীদের জব্দকৃত ক্যামেরা,ল্যাপটপ,মেমোরি বা পেনড্রাইভে লুকিয়ে রয়েছে সিনহা হত্যার মূল রহস্য! এ ধরনের আলোচনা চলছে কক্সবাজার আদালত পাড়ায়।অনেকে ধরে নিয়েছে জব্দকৃত এসব সামগ্রীতে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ইন্টারভিউ থাকতে পারে।

জানা গছে,সিনহা হত্যার রাতে রামু নীলিমা রিসোর্ট থেকে ল্যাপটপ ক্যামেরাসহ ২৯ ধরনের সামগ্রী জব্দ করে রামু থানা পুলিশ।তবে পুলিশের করা মামলায় এসব জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি। কিন্তুু কঠোর সমালোচনার মুখে এক পর্যায়ে রামু থানা পুলিশ জানায় জিডিমূলে এসব সামগ্রী আলাদা জব্দ রাখা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে,সিনহা হত্যা মামলা তদন্তের স্বার্থে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রামু পুলিশের কাছে নীলিমা রিসোর্ট থেকে জব্দকৃত ২৯ ধরনের মালামাল পেতে আবেদন করে র‍্যাব।কিন্তু উর্ধ্বেতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লাগবে জানিয়ে জব্দকৃত এসব সামগ্রী র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ।

পরে জব্দকৃত ২৯ধরনের এ মালামালের জন্য
র‍্যাব আদালতে শরণাপন্ন হলে এসব সামগ্রী নিজেদের কাছে রাখতে পুলিশও আদালতের শরণাপন্ন হয়।

র‍্যাব জানায়,হত্যার রহস্য উদঘাটনে রামু থানায় জব্দকৃত ২৯ ধরনের মালামাল পেতে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয় র‍্যাব। আবেদনের প্রেক্ষিতে জব্দকৃত মালামাল র‍্যাবকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তুু পুলিশও জব্দকৃত সামগ্রী নিজেদের হেফাজতে রাখতে আদালতে আবেদন করেন।

বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট রামু থানা পুলিশের করা আবেদন শুনানী শেষে খারিজ করে দেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দীন।
পুলিশের এই আমলী আবেদন খারিজ করে জব্দকৃত সামগ্রীগুলো র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের আদেশ বহাল রাখে আদালত।

শুনানী শেষে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত র‌্যাব ১৫ এর এএসপি বিমান চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৯টি জব্দকৃত মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব কর্মকর্তারা।

এদিকে আদালতের নির্দেশে সিনহা হত্যা তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত র‍্যাবকে জব্দকৃত মালামাল বুঝিয়ে না দিয়ে তা নিজেদের হেফাজতে রাখতে পুলিশও আদালতের আশ্রয় নেয়ায় জব্দকৃত এসব সামগ্রীতে সিনহা হত্যার রহস্য থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে আদালত পাড়ায়।

মোঃ রাশেদ নামের আইনজীবীর এক সহকারী জানান,টেকনাফ থানা থেকে ১৩দিনের সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব ও জব্দকৃত মালামালের প্রতি পুলিশের আগ্রহ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা হচ্ছে।

তিনি জানান,বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশিত সিনহা কর্তৃক টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ইন্টাভিউটি অনেকে সত্য বলে মনে করতেছে। এবং এ কারণে সিনহা হত্যাকাণ্ড বলে ধরে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল খায়ের এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে সিনহা হত্যার তদন্তের ভার পাওয়া র‍্যাবের পক্ষথেকে বলা হচ্ছে, যাচাই না করে আপাতত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে আলোচনায় আসা সব বিষয় ও তথ্য যাচাই করছে র‍্যাব।

প্রসঙ্গত গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করেন।এবং সিনহার দুই সহকর্মী শিপ্রার দেবনাথ ও শিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠান।পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।

অপরদিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার বোন বাদী শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে ৯জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কক্সবাজারের আদালত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: