রোহিঙ্গা হওয়ায় মিয়ানমারের নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল!

মিয়ানমারের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের কারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন রাজনীতিবিদ আবদুল রশিদ। তিনি জন্মসূত্রে মিয়ানমারের নাগরিক। তার বাবা দেশটির সিভিল সার্জনের দায়িত্বে ছিলেন।
অন্য দেশের নাগরিক (বাংলাদেশ) হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যবসায়ী আবদুর রশিদের প্রার্থিতার আবেদনটি নাকচ করে দেয় মিয়ানমার সরকার।
‘আমার কাছে প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র থাকা সত্ত্বেও তারা আমার প্রার্থিতা বাতিল করেছে। আমার মা বাবা যে মিয়ানমারের নাগরিক, সেই প্রমাণও আমার কাছে আছে। কিন্তু তারা কিছুই গ্রহণ করেনি। এই কারণে আমার খারাপ লাগছে এবং আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে উদিগ্ন,’ আন্তজার্তিক গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন রশিদ।
শুধু রশিদ নন, একই কারণে (রোহিঙ্গা পরিচয়) তার মতো আরও ছয় রোহিঙ্গার প্রার্থিতা বাতিল করেছে মিয়ানমার সরকার।
অং সাং সুচির দলের অধীনে আসন্ন ৮ নভেম্বর নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় এক ডজন রোহিঙ্গা আবেদন করেন। তাদের মধ্যে মাত্র ছয়জনের প্রার্থিতা গ্রহণ করা হয়।
‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যারা মিয়ানমারে বসবাস করে তাদের সবার নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দিতা করার সমান অধিকার রয়েছে’, বলছেন টুন কিন, যিনি বিট্রেনের বার্মা রোহিঙ্গা প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এই নির্বাচনে অর্থ দিয়ে সহায়তা না করার জন্য মি. টুন আন্তর্জাতিক সাহা্য্যে দাতাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে যাওয়ার প্রচেষ্টার কারণে মিয়ানমারের জন্য এবারের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের প্রার্থিতা বাতিলের মাধ্যমের এই সংস্কারকে মিয়ানমার সংকোচিত করছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: